ছেলের গুলিতে বিএনপি নেতা আহত, দুজনকেই দল থেকে বহিষ্কার

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি প্রকাশিত: এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
ছেলের গুলিতে বিএনপি নেতা আহত, দুজনকেই দল থেকে বহিষ্কার

দলের ভেতরে সন্ত্রাস, হানাহানি ও রক্তপাতের ঘটনায় জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা বিএনপির দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বহিষ্কৃতরা হলেন- ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জামিরদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. খোকা মিয়া এবং সাবেক ছাত্রনেতা ও বিএনপি কর্মী তোফায়েল আহমেদ রানা। তারা সম্পর্কে বাবা-ছেলে।

স্থানীয় দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের নারিশের মোড় এলাকায় বাবা-ছেলের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ এবং কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিনজন আহত হন।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সহিংসতার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় হাই কমান্ড এই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

স্থানীয়দের মতে, মিল-ফ্যাক্টরির ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ ও অর্থনৈতিক আধিপত্যের লড়াই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।

জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখর উদ্দিন আহম্মদ বাচ্চু। অপরদিকে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে উপজেলা বিএনপির অপর অংশের নেতা আলহাজ মো. মোর্শেদ আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচন চলাকালীন সময় দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার দায়ে মোর্শেদ আলমকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে তার অনুসারী অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকেও বহিষ্কার করা হয়।

নির্বাচনে ফখর উদ্দিন আহম্মদ বাচ্চু জয়লাভ করেন। পরে মিল-ফ্যাক্টরির ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ বাড়তে থাকে, যা রোববারের ঘটনার দিকে গড়ায়।

খোকা মিয়া ও তার ছেলে রানা নির্বাচনে ভিন্ন ভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেন বলেও জানা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মিল-ফ্যাক্টরির ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সহিংসতা বাড়ে।

অন্যদিকে, মোর্শেদ আলম দাবি করেন, তিনি দীর্ঘদিন এসব ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে এবং তার অনুসারীদের বাধা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন তার লোকজন অফিসে বসলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহম্মদ বাচ্চু বলেন, তিনি এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। কেউ তার নাম ব্যবহার করে ব্যবসায় বাধা বা হুমকি দিলে তার প্রমাণ দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, তিনি বা তার পরিবার কোনোভাবেই ঝুট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন।

এএন