রাজশাহীতে ক্লাস্টার উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

রাকিবুল হাসান, রাজশাহী প্রকাশিত: এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
রাজশাহীতে ক্লাস্টার উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ও রেজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (আরইউটিডিপি), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে ক্লাস্টার উন্নয়ন ও ক্যাপিটাল বিনিয়োগ পরিকল্পনা বিষয়ক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার নগর ভবনের সরিৎ দত্তগুপ্ত নগর সভাকক্ষে আয়োজিত এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।

সভায় তিনি বলেন, সরকার নারীদের ক্ষমতায়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নগর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নাগরিক সম্পৃক্ততা এ প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে তা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। রাজশাহী মহানগরীর সার্বিক উন্নয়নে তিনি নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেন্ডার স্পেশালিস্ট সাজেদা বেগম, সচিব সোহেল রানা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন পরাগ, জুনিয়র সোশ্যাল ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট এমটিএস মেহমুদ, আরবান প্ল্যানার সাইফুর রহমান, সোশ্যাল ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট হাসিবুল হক এবং জুনিয়র এনভায়রনমেন্টাল স্পেশালিস্ট মো. আল আমিনসহ সিটি কর্পোরেশনের টাউন-লেভেল কোঅর্ডিনেশন কমিটির সদস্য, প্রকল্পের কারিগরি বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শকবৃন্দ।

বক্তারা জানান, এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য নির্বাচিত ক্লাস্টারভুক্ত পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় জলবায়ু সহনশীল নগর অবকাঠামো ও সেবার উন্নয়ন, নগর ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ ও নগর অর্থনীতির মধ্যে সংযোগ জোরদার করা।

তারা আরও জানান, ক্লাস্টারভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা, ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান ও জলবায়ু সহনশীল কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেও এ কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, প্রথম পর্যায়ে দেশের ৮১টি পৌরসভা ও ৬টি সিটি কর্পোরেশনে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এর আওতায় ৩৬টি জেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষ উপকৃত হবেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ নারী।

এছাড়া প্রকল্পের আওতায় রাস্তা ও ফুটপাত উন্নয়ন, সড়কবাতি স্থাপন, ড্রেন নির্মাণ, পাবলিক টয়লেট, বাজার ও বাস টার্মিনাল উন্নয়ন, ডাম্পিং স্টেশন, সুপারমার্কেট, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ এবং পৌর ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্প সামাজিক ও পরিবেশগত দিক বিবেচনায় রেখে এবং নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।

এএন