কাস্টমস কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি  প্রকাশিত: এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম
কাস্টমস কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ
বুলেট বৈরাগীর মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর স্বজনেরা। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লা নগর উদ্যানের পাশে অবস্থিত কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কুমিল্লা কার্যালয়ে ।ছবি : সংগৃহীত

‘বাসে আছি, কিছুক্ষণের মধ্যে বাসায় ফিরব’, শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটে মা নীলিমা বৈরাগীকে এটাই ছিল ৪১তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) এর মাধ্যমে কাস্টমস বিভাগে যোগ দেওয়া তরুণ কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর শেষ ফোনালাপ। এরপর আর ফেরা হয়নি তাঁর। ভোরের আলো ফোটার আগেই মহাসড়কের পাশে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই পরিবার এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুলেট বৈরাগীর মুখমণ্ডলে রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া যায়নি।

পরিবার আরও জানায়, রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে তাঁর ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে অপর প্রান্ত থেকে এক অচেনা রুক্ষ কণ্ঠ শোনা যায়, যা বুলেটের কণ্ঠ ছিল না বলে তাঁদের দাবি। এতে তারা ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

২০২২ সালের ২২ এপ্রিল বিয়ে করেন বুলেট বৈরাগী ও উর্মি হীরা। সম্প্রতি ছিল তাঁদের তৃতীয় বিবাহবার্ষিকী, তবে প্রশিক্ষণে থাকার কারণে তিনি পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারেননি।

আগামী ২৭ এপ্রিল তাঁদের একমাত্র সন্তান অব্যয় বৈরাগীর প্রথম জন্মদিন ছিল। সন্তানের জন্য উপহার নিয়েই তিনি কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। কিন্তু সেই যাত্রাই তাঁর শেষ যাত্রা হয়ে দাঁড়ায়।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার ডুমুরিয়া গ্রামের কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া বুলেট বৈরাগী কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে কাস্টমস বিভাগে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মরদেহ কুমিল্লা নগর উদ্যানের পাশে কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কার্যালয়ে আনার পর সহকর্মীরা শেষ শ্রদ্ধা জানান।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি জানিয়েছেন, অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা নেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চলছে।

স্ত্রী উর্মি হীরা বলেন, “আমার স্বামীর সাথে কী ঘটেছে, আমি সত্যিটা জানতে চাই।”

পরিবার ও স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন সরকারি কর্মকর্তা দায়িত্ব শেষে বাড়ি ফেরার পথে কীভাবে এমনভাবে প্রাণ হারালেন, এবং সেখানে নিরাপত্তার ভূমিকা কতটা কার্যকর ছিল?

বুলেট বৈরাগীর মরদেহ টুঙ্গিপাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি চলছে। পরিবার ও এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত শেষ করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এম জি