ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের উত্তর মৌড়াইল এলাকায় আয়েশা আক্তার (১২) নামে এক শিশু গৃহকর্মীকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসক দম্পতির বিরুদ্ধে。 নির্যাতনের শিকার শিশুটি বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এই ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ অভিযুক্ত চিকিৎসক কে. এম. আবদুল্লাহ আল নোমান ও তাঁর স্ত্রী চিকিৎসক কিমিয়া সাদাত তোফাকে গ্রেপ্তার করেছে।
ভুক্তভোগী আয়েশা সরাইল উপজেলার পাকশিমুল গ্রামের রাকিব মিয়ার মেয়ে। প্রায় ৯ মাস আগে তাকে ওই চিকিৎসক দম্পতির বাসায় কাজে পাঠানো হয়। পরিবারের অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে আয়েশার সাথে কাউকে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি ওই দম্পতি দাবি করেন যে আয়েশা বাসা থেকে চুরি করে পালিয়েছে। এই প্রেক্ষিতে পরিবারের করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে গতকাল বুধবার পুলিশ চিকিৎসক দম্পতির পাশের একটি বাড়ি থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে।
উদ্ধারের সময় শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায় পুলিশ ও পরিবার। স্বজনদের দাবি, তুচ্ছ ঘটনায় আয়েশাকে নিয়মিত মারধর করা হতো এবং এখন নিজেদের দোষ ঢাকতে তাকে চোর সাজানোর চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত চিকিৎসক নোমান নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, আয়েশা তাদের বাসা থেকে স্বর্ণ ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। তাঁর মতে, চুরির ঘটনা আড়াল করতেই এই নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
গৃহকর্মীকে নির্যাতনের ঘটনায় শিশুটির পরিবার বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে চিকিৎসক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বিকেলেই তাঁদের সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন