গাজীপুরের শ্রীপুরে এক প্রবাসীর বসতঘর ভাঙচুর, টিনের চাল খুলে নেওয়া এবং ভাড়াটিয়াদের মারধর করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক মাদক কারবারীর বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব ঘটনায় এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের ধলাদিয়া (সাইনবোর্ড) লালটেক এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রবাসী আব্দুল মালেক দেওয়ানের ভাড়া দেওয়া ৮টি টিনশেড ঘরের অধিকাংশই ক্ষতিগ্রস্ত। কোথাও চাল নেই, কোথাও আবার দেয়ালের ইট খুলে নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় মাদক কারবারী ও সেবনকারী জালাল উদ্দিন এবং তার মা আনোয়ারা বেগম এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত। তারা শুধু টিনের চাল খুলেই ক্ষান্ত হননি; ভাড়াটিয়াদের ভয়ভীতি ও নির্যাতন করে ঘর ছাড়তে বাধ্য করেছেন এবং পরে ঘরের ইট পর্যন্ত খুলে নিয়ে যাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী প্রবাসী আব্দুল মালেক দেওয়ান জানান, তিনি কাপাসিয়া উপজেলার সূর্যনারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। প্রায় ৩–৪ বছর আগে আনোয়ারা বেগম ও তার ছেলে জালাল উদ্দিনদের কাছ থেকে প্রায় ৩৩ লাখ টাকায় আড়াই গণ্ডা জমি কিনে সেখানে ৮টি টিনশেড ঘর নির্মাণ করেন। এসব ঘর থেকে মাসে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা ভাড়া পেতেন তিনি। কিন্তু অভিযুক্তদের অত্যাচারে ভাড়াটিয়ারা একে একে ঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন।
তিনি আরও জানান, “ভাড়াটিয়ারা চলে যাওয়ার পর জালাল উদ্দিন ও তার লোকজন আমার ঘরের টিনের চাল খুলে নিয়ে যায়। এখন তারা ঘরের ইট পর্যন্ত খুলে নিচ্ছে। থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।”
এলাকাবাসীর অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কথা বললেই তারা প্রতিশোধ নেয়। তাই ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
এদিকে রাজাবাড়ী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল কাদিরও একই অভিযোগ তুলে বলেন, “জালাল উদ্দিনের অত্যাচারে আমিও অতিষ্ঠ। কয়েক মাস আগে রাতের আঁধারে সে আমার ভাড়া দেওয়া ঘরের স্টিলের গেট খুলে নিয়ে গেছে। ভাড়াটিয়ারা তার ভয়ে থাকতে চায় না। ঘর ফাঁকা হলেই টিনের চাল কেটে ও বৈদ্যুতিক তার খুলে নিয়ে যায়।”
ভুক্তভোগী প্রবাসীসহ স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অভিযুক্ত জালাল উদ্দিন ও তার মা আনোয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত জালাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনও বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক ব্যবসা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন তারা।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন