পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন ছিল বলে মন্তব্য করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
শুক্রবার বিকেলে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সোনাচান্দি এলাকায় করতোয়া নদীর বাঁধ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অভিন্ন নদীগুলোর প্রবাহমানতা ফিরিয়ে আনতে ভারতের সাথে আলোচনা চলছে। আমরা একনেকে পদ্মা ব্যারেজের প্রকল্প পাস করে যেমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি, ঠিক তদ্রূপ অল্প দিনের মধ্যে ফারাক্কা চুক্তিও সম্পন্ন করা হবে। পর্যায়ক্রমে অভিন্ন নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মধ্য দিয়ে তারা এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।
ফরহাদ হোসেন আজাদ সতর্ক করে বলেন, এই নদীমাতৃক বাংলাদেশকে যদি আগামী দিনে বাঁচাতে হয়, তাহলে নদী-খাল-জলাশয় খনন, পুনঃখনন এবং পুনরুদ্ধার করা জরুরি। নদীগুলোর প্রবাহ ধরে রাখতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ মরুভূমি হয়ে যেতে পারে। এই অঞ্চলে ইতিমধ্যে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। তবে আনন্দের বিষয় হচ্ছে, আগে যারা নদী দখল করেছিল, আজ সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় তারা এখন দখল ছেড়ে দিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের ৫৪টি নদী ভারতের সঙ্গে এবং ৩টি নদী মিয়ানমারের সঙ্গে সংযুক্ত। এরই মধ্যে পদ্মা নদীর ওপরে ব্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এই পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ করা হলে দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ২৪টি জেলা এবং ১৬৩টি উপজেলায় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ধরে রাখা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কৃষ্ণ কমল চন্দ্র রায়, পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশুতোষ রায়, বোদা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান, বোদা উপজেলা ও বেংহারি বনগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় সুধীজন।
উল্লেখ্য, স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে প্রায় ১৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে করতোয়া নদীর ১১.৫০ মিটার দীর্ঘ এই বাঁধ নির্মাণ কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন