কটিয়াদীতে জমি নিয়ে বিরোধে ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ১৬, ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম
কটিয়াদীতে জমি নিয়ে বিরোধে ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আপন ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে চাচার বিরুদ্ধে।

শুক্রবার দুপুরে উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের পূর্বচর পাড়াতলা এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আনোয়ার হোসেন ওই গ্রামের সাফি উদ্দিনের ছেলে। অভিযুক্ত মরম আলী একই গ্রামের বাসিন্দা এবং নিহতের আপন চাচা।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জমিজমা নিয়ে চাচা মরম আলীর সঙ্গে আনোয়ার হোসেনের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিস হলেও কোনো সমাধান হয়নি। শুক্রবার দুপুরে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে পুনরায় কথা-কাটাকাটি হয়। বিকেলে স্থানীয়রা চটান পূর্বচর পাড়াতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিঁড়িতে আনোয়ার হোসেনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। 

অভিযোগ উঠেছে, এ সময় অভিযুক্ত মরম আলী ও তাঁর সহযোগীরা অস্ত্র হাতে পাহারায় ছিলেন। তাঁরা কাউকে আনোয়ারের কাছে যেতে দেননি এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সেখানেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন আনোয়ার। সন্ধ্যায় পুলিশ খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত আনোয়ারের মা শিরিনা আক্তার বলেন, তাঁরা দুপুরে বাড়িতে ছিলেন না। এই সুযোগে মরম আলী তাঁর লোকজন নিয়ে তাঁর ছেলেকে কুপিয়ে আহত করে। পরে স্কুলের বারান্দায় ফেলে রেখে তারা পাশে দাঁড়িয়ে পাহারা দেয়, যাতে কেউ বাঁচাতে না পারে। নিহতের বোন সালমা আক্তার বলেন, বাড়ি ফাঁকা পেয়ে চাচা মরম আলী পরিকল্পিতভাবে তাঁর ভাইকে হত্যা করেছে। তাঁরা এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান।

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) শ্যামল মিয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ সন্ধ্যার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহালে মরদেহের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াধীন।

জেএইচআর