বিএনপি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র নয়, বরং বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিত করতে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছে বলে জানিয়েছেন খুলনা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী। তিনি বলেন, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন ও কল্যাণ নিশ্চিত করাই বিএনপির প্রধান লক্ষ্য। দেশের উন্নয়ন কীভাবে বাস্তবায়ন করতে হয়, সে বিষয়ে দলের সুস্পষ্ট অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনা রয়েছে।
বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “খুবই কম সময়ে আপনারা আমাকে বিপুল ভোট দিয়েছেন। অনেকেই মিথ্যাচার করেছিল আমি আপনাদের ছেড়ে চলে যাব, কিন্তু আমি আপনাদের ছেড়ে যাইনি। এই অঞ্চলের উন্নয়নমূলক কাজের মাঝেই আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই।”
বুধবার খুলনা ও কয়রা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনভর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান, উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন এবং সামগ্রী বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।
দিনের শুরুতে সকাল সাড়ে ১০টায় পাইকগাছা লক্ষ্মীখোলা কলেজিয়েট স্কুলে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মানিক চন্দ্র ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মমিনুর রহমান, পাইকগাছা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল মজিদ এবং পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আসলাম পারভেজ। অনুষ্ঠানে মনিরুল হাসান বাপ্পী বর্তমান সরকারকে শিক্ষাবান্ধব উল্লেখ করে বলেন, নারী শিক্ষার প্রসারে এইচএসসি পর্যন্ত বিনামূল্যে করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি পর্যায়ক্রমে এই কলেজের শিক্ষার মান বাড়াতে অত্যাধুনিক সুবিধাসম্বলিত ক্যাম্পাস ও আইসিটি ক্লাসরুমসহ অন্যান্য সুবিধার উন্নয়ন করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এরপর দুপুর ১২টায় কয়রা উপজেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আকবর হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনজুর আলম নাননুর সঞ্চালনায় আরেকটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জেলা পরিষদ প্রশাসক আইনজীবীদের কল্যাণে সব সময় পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং কয়রা আইনজীবী সমিতির অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ ঘোষণা করেন।
দুপুর সাড়ে ১২টায় কয়রা উপজেলা চত্বরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল্লাহ আল বাকীর সভাপতিত্বে জেলা পরিষদের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী, সেলাই মেশিন ও সাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে মো. মমিনুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কয়রার ২০০টি পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী, অসচ্ছল ২৩ জন নারীকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে সেলাই মেশিন এবং ২৫ জন মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর পড়াশোনা নির্বিঘ্ন করতে বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়।
সবশেষে দুপুর ২টায় কয়রা উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের শুভ উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক। প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- বুজবুজিয়া ফরেস্ট অফিসের সামনে বসার বেঞ্চ ও শেড নির্মাণ, হরিহরপুর লঞ্চঘাটের পাশে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের বসার বেঞ্চ নির্মাণ, কাশিয়াাবাদ পুলিশ ক্যাম্পের পাশে আগতদের বসার বেঞ্চ নির্মাণ এবং হরিহরপুর মাহাতোপাড়া এইচবিবি রাস্তা হতে ওয়াপদা অভিমুখে রাস্তার ইট সোলিং কাজ।
এসব কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল আলম নান্নু, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মাওলা বক্স, কয়রা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব নুরুল আমীন বাবুল, জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান, আবু সাঈদ বিশ্বাস, আলহাজ্ব মনিরুজ্জামান বেল্টু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান মিস্ত্রী, এফ এম মনিরুজ্জামান মনি, এস এম এ রহিম, গাজী সিরাজুল ইসলাম, আঃ মজিদ মিস্ত্রি, জিএম রফিকুল ইসলাম, শেখ সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম, সদস্য সচিব মোতাসিম বিল্লাহ, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফ বিল্লাহ সবুজ, কপোতাক্ষ কলেজের সভাপতি মামুন হোসেন, শেখ সালাউদ্দিন লিটন, হাবিবুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান ওসমান গনি খোকন এবং আবুল কালাম আজাদ কাজলসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন