সরকারি অনুদানের ঢেউটিন বিতরণ কার্যক্রম শেষ হয়ে গেলেও অসহায় এক নারীর মাথা গোঁজার স্বপ্ন ভাঙতে দেননি মানবিক ব্যক্তিরা। ব্যক্তিগত উদ্যোগে এগিয়ে এসে নতুন ঢেউটিনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন মাগুরা পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিল।
মাগুরা সদর উপজেলার জগদাল ইউনিয়নের জাগলা শিকদার পাড়ার বাসিন্দা অলোকা শিকদার। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ একটি ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন তিনি। পুরোনো টিনে অসংখ্য ছিদ্র থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ত। ভিজে যেত বিছানা, কাপড় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। কখনো রাত জেগে, কখনো ঘরের এক কোণে সরে গিয়ে সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হতো তাঁকে। দিনমজুরির অল্প আয়ে সংসার চালাতেই হিমশিম খাওয়া অলোকা শিকদারের পক্ষে নতুন টিন কেনা ছিল প্রায় অসম্ভব।
সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, মাগুরা সদর উপজেলা পরিষদ থেকে অসহায় পরিবারের মাঝে সরকারি অনুদানের ঢেউটিন বিতরণ করা হচ্ছে। আশা নিয়ে উপজেলা পরিষদে গেলেও সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, কয়েক দিন আগেই টিন বিতরণ শেষ হয়েছে।
হতাশ হয়ে বাড়ি ফেরার পথে মাগুরার স্থানীয় ছাত্রনেতাদের সঙ্গে দেখা হয় তাঁর। অলোকা শিকদারের দুরবস্থার কথা শুনে তাঁরা বিষয়টি মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খানের নজরে আনার পরামর্শ দেন। পরে বিষয়টি জানানো হলে সংসদ সদস্য তাৎক্ষণিক সহযোগিতার নির্দেশনা দেন।
সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় মাগুরা পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিল নিজ ব্যক্তিগত অর্থায়নে শহরের সিদ্দিকীয়া মার্কেট থেকে এক বান্ডিল নতুন ঢেউটিন কিনে অলোকা শিকদারের হাতে তুলে দেন।
নতুন টিন হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত অলোকা শিকদার বলেন, “আমি ভেবেছিলাম এবারও হয়তো ভাঙা ঘরেই বর্ষা কাটাতে হবে। অনেক জায়গায় ঘুরেও কোনো উপায় পাইনি। পরে তাঁরা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এখন অন্তত পরিবার নিয়ে শুকনো জায়গায় থাকতে পারব।”
স্থানীয় ছাত্রনেতারা জানান, একজন অসহায় মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। সংসদ সদস্য দ্রুত সহযোগিতার নির্দেশ দেওয়ায় এবং কিজিল ভাই ব্যক্তিগত উদ্যোগে টিন কিনে দেওয়ায় একটি পরিবারের বড় কষ্ট দূর হয়েছে।
এ বিষয়ে মাসুদ হাসান খান কিজিল বলেন, মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব। অলোকা শিকদারের ঘরের অবস্থা শুনে ব্যক্তিগতভাবে সহায়তার চেষ্টা করেছি। সামর্থ্য অনুযায়ী ভবিষ্যতেও অসহায় মানুষের পাশে থাকতে চাই।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি বরাদ্দ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও ব্যক্তিগত উদ্যোগে একজন অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘটনাটি এলাকায় ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। কোনো ভেদাভেদ না করে একজন সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোয় কিজিলের এই মানবিক উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন