বিয়ের পর প্রথমবার শ্বশুরবাড়ি বরিশালে মালয়েশিয়ান তরুণী

বরিশাল ব্যুরো প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
বিয়ের পর প্রথমবার শ্বশুরবাড়ি বরিশালে মালয়েশিয়ান তরুণী

মালয়েশিয়াপ্রবাসী ও বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা সোহেল খলিফাকে বিয়ের দুই বছর পর প্রথমবারের মতো স্বামীর সঙ্গে শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে এসেছেন এক মালয়েশিয়ান তরুণী। এ উপলক্ষে সোমবার রাতে গায়ে হলুদ এবং ৩ জুন দুপুরে প্রবাসী সোহেলের নাঠৈ গ্রামের বাড়িতে বৌভাতের আয়োজন করা হয়। এ সময় আমন্ত্রিত অতিথি ও গ্রামবাসীরা দম্পতিকে একনজর দেখার জন্য ওই বাড়িতে ভিড় জমান।

প্রবাসী সোহেলের পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০১১ সালে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান সোহেল। পরবর্তীতে সেখানে ব্যবসা শুরু করেন। ২০২৪ সালে এক মালয়েশিয়ান তরুণীকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর এতদিন তারা মালয়েশিয়াতেই ছিলেন। কোরবানির ঈদের দিন সোহেল তার স্ত্রীকে নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন। এ সময় পরিবারের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে তাদের বরণ করে নেওয়া হয়।

প্রবাসী সোহেল খলিফা জানান, আমি দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ার দামানসারা এলাকায় ব্যবসা করে আসছি। ২০২২ সালে মালয়েশিয়ার বানতিং এলাকার তরুণী নুর হিদায়া নুর হিশামের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২৪ সালে উভয় পরিবারের সম্মতিতে মালয়েশিয়ায় আমাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর আমি একবারও দেশে আসিনি। আমার স্ত্রী বিয়ের পর থেকেই বাংলাদেশে এসে তার শ্বশুরবাড়ি দেখার এবং গ্রামের মানুষের সঙ্গে মিশে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। সে কারণেই দুই সপ্তাহের জন্য তাকে নিয়ে বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছি। এতে আমাদের দুই পরিবারই খুব খুশি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আমার বিদেশি স্ত্রী বাংলাদেশে এসে আমার মা, ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে মিশতে পেরে আনন্দিত। সে অল্প বাংলা বলতে পারে। এমনকি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতও গাইতে পারে। গ্রামের মানুষের সঙ্গে বাংলায় অল্প অল্প করে কথা বলাও শিখেছে। স্ত্রীকে নিয়ে কক্সবাজার ও কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত ঘুরে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর আমরা আবার মালয়েশিয়ায় ফিরে যাব।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল জানান, লোকমুখে জানতে পেরেছি, মালয়েশিয়া থেকে এক তরুণী তার স্বামীর সঙ্গে নাঠৈ গ্রামে এসেছেন। বিদেশি তরুণীকে দেখতে সেখানে অনেক মানুষ ভিড় করছেন। তাদের যেন কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়, সেদিকে আমরা নজর রাখছি।

এম জি