লালমনিরহাটের তিনটি পৃথক সীমান্ত এলাকায় পুরুষ, নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩৩ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থান ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এ ঘটনায় পুরো সীমান্ত এলাকায় চরম উত্তেজনা ও সতর্কতা বিরাজ করছে।
স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত ভোররাতে পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা ও আদিতমারী—এই তিন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়। সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে থাকা এসব মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পাটগ্রাম সীমান্তের শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বাবুল কামাত পানিসালা এলাকায় সীমান্ত পিলার ৮৪৬-এর কাছ দিয়ে ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। হাতীবান্ধার ফকিরপাড়া সীমান্তে ১১ জন এবং আদিতমারী উপজেলার দীঘলটারী সীমান্তে আরও ১২ জনকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হয় বলে জানা গেছে।
পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে বিএসএফ পিছু হটে। পুশইনের চেষ্টায় থাকা ১০ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন-মোস্তফা বিশ্বাস (২৬), আজগর আলী (৫৪), মোর্শেদ (২০), রেহানা বিশ্বাস (২২), ফাতেমা বেগম (৩০), জাহেদা বেগম (৪০), অনুপা (২০), লিসা খাতুন (২৫), তাসলিমা (২৬) এবং একটি শিশু। তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে।
দুর্গাপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোস্তাকিন আলী বলেন, বিএসএফ কিছু ব্যক্তিকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল, তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তা সম্ভব হয়নি।
৬১ বিজিবির পয়ষট্টিবাড়ী বিওপি ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবেদার মিজানুর রহমান বলেন, ভোর ৪টা ২০ মিনিটের দিকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। আমাদের টহল দল দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তা প্রতিহত করে। বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক চলছে এবং সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন