যমুনা সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় ২৪ দুর্ঘটনা, ১৫ কিমি যানজট

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ৬, ২০২৬, ০৮:১৯ এএম
যমুনা সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় ২৪ দুর্ঘটনা, ১৫ কিমি যানজট
সংগৃহীত ছবি

ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের হাজারো মানুষ। শনিবার পোশাক কারখানাগুলো খোলার প্রাক্কালে ঢাকামুখী যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় যমুনা সেতু এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট ও ভোগান্তি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার রাত ১১টা পর্যন্ত ২৩ ঘণ্টায় যমুনা সেতুর ওপর ছোট-বড় মিলিয়ে ২৪টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ছয়টি ঘটনায় দুর্ঘটনাকবলিত যান সরাতে রেকার ব্যবহার করতে হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে কখনো একটি, আবার কখনো সেতুর উভয় লেনেই যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।

এর প্রভাব পড়ে সেতুর দুই পাড়ে। শুক্রবার সকাল থেকেই পশ্চিমপাড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিকেলের দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও রাত ৯টার দিকে সেতুর ৭ নম্বর পিলারের কাছে দুটি বাসের সংঘর্ষে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়। ওই দুর্ঘটনায় একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন।

যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ ছিল। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত ১১টার পর সেতুর পূর্বপাড় থেকে যানবাহন পারাপার সাময়িক বন্ধ রেখে সব লেন দিয়ে উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকাগামী যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়।

তিনি বলেন, যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ এবং ঘনঘন দুর্ঘটনার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। তবে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, সেতুর ওপর কোনো যানবাহন বিকল হয়ে পড়া কিংবা একটির সঙ্গে আরেকটির সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমানে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় সমস্যাও বেড়েছে।

এদিকে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী এক বাসচালক জানান, সকাল থেকে কয়েক ঘণ্টা পশ্চিমপাড়ে যানজটে আটকে থাকার পর ফেরার পথে আবারও সেতুর পূর্বপাড়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মহাসড়কের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ও ড্রোনের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত ট্রাফিক আপডেট প্রকাশ করা হচ্ছে। যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে জেলা পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, স্বাভাবিক সময়ে এ মহাসড়ক দিয়ে দৈনিক ১৭ থেকে ১৮ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও ঈদের সময় সেই সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। ফলে সড়কে চাপ বেড়ে গিয়ে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়।

এএন