ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাগুরায় জনসচেতনতামূলক র্যালি, আলোচনা সভা ও ফগিং কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার মাগুরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য জনসচেতনতামূলক র্যালি বের হয়। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা মাইকিং ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেন। র্যালিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।
কর্মসূচিতে মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পৌরসভা, সিভিল সার্জন অফিস, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়, নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মাগুরা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
র্যালি শেষে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবীর।
সভায় বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অধিক কার্যকর। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকতে দেওয়া এবং কার্যকর মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবীর বলেন, “ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। তবে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়। মশার উৎসস্থল ধ্বংস করতে পারলে রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।”
মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মহাসিন উদ্দিন ফকির বলেন, “ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা প্রদানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল কাদের বলেন, “জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জেলা প্রশাসন স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।”
আলোচনা সভায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবায় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও তৎপরতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং মশকনিধন কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সবাইকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন