শূন্যরেখায় বন্দি মানবতা: পুশ-ইনের শিকার শিশুসহ ৬ জনের অনিশ্চিত প্রহর

সিরাজুদ্দোজা পাভেল, মেহেরপুর প্রকাশিত: জুন ৬, ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
শূন্যরেখায় বন্দি মানবতা: পুশ-ইনের শিকার শিশুসহ ৬ জনের অনিশ্চিত প্রহর

সীমান্তের কাঁটাতারের দুই প্রান্তে অস্ত্রের ঝনঝনানি আর কড়া পাহারা। কিন্তু দুই দেশের মাঝখানের শূন্যরেখা যখন কিছু মানুষের নিয়তি হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেখানে ঝরে পড়ে মানবিকতার করুণ দীর্ঘশ্বাস। তীব্র তাপদাহের মধ্যে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তের মেইন পিলার ১৪০ এর সাব-পিলার ৫ সংলগ্ন শূন্যরেখায় চরম মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটছে এক শিশুসহ ছয়জন মানুষের।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ-ইনের শিকার হয়ে তারা সেখানে আটকে পড়েছেন। না পারছেন এগোতে, না পারছেন পিছু হটতে। দুই দেশের কঠোর অবস্থানের মাঝখানে তীব্র গরম, খাবার ও পানির সংকট এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটছে তাদের প্রতিটি মুহূর্ত।

শনিবার ভোররাতে তেঁতুলবাড়ীয়া গ্রামের হাটপাড়া এলাকা দিয়ে বিএসএফ এই ছয়জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। বিএসএফ কাঁটাতারের বেড়ার গেট খুলে দিলে তারা নিরুপায় হয়ে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় গ্রামবাসী তাৎক্ষণিকভাবে তাদের প্রতিরোধ করে। ফলে তারা বাংলাদেশের সীমানায় ঢুকতে না পেরে আবার কাঁটাতারের ওপারে ভারতের ভূখণ্ডে ফিরে যেতে বাধ্য হন। কিন্তু বিএসএফ তাদের নিজেদের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে না নিয়ে সীমান্তের কাছেই অবস্থান করতে বাধ্য করে।

অসহায় এই দলটিতে রয়েছেন তিনজন পুরুষ, দুইজন নারী এবং একটি শিশু।

শূন্যরেখায় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর চোখেমুখে এখন শুধুই ক্লান্তির ছাপ। মাথার ওপর খোলা আকাশ আর পায়ের নিচে তপ্ত মাটি ছাড়া তাদের কোনো আশ্রয় নেই। দুপুরের পর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হলে শূন্যরেখার কাছে অবস্থানরত এক বৃদ্ধা নারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান এবং খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে শিশুটির কান্না ও বড়দের অসহায় চাহনি সীমান্তের পরিবেশকে আরও ভারী করে তুলেছে।

এপারে বিজিবি ও গ্রামবাসী এবং ওপারে বিএসএফের সশস্ত্র অবস্থানের মাঝখানে পড়ে তারা চরম মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণার মুখোমুখি হয়েছেন।

পুশ-ইনের এই ঘটনা প্রতিরোধে ভোর থেকেই সীমান্তে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিজিবি। তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে হ্যান্ডমাইকে বারবার বিএসএফকে আহ্বান জানানো হচ্ছে, যেন তারা এই ছয়জনকে নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয়। তবে এ বিষয়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।

এম জি