সাম্প্রতিক সংঘাত, ভাঙচুর ও হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে আলোচিত মাগুরার আলমখালী ও আশপাশের এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পুলিশ। বিরোধপূর্ণ দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় এবার আয়োজন করা হলো ‘পুলিশ সুপার কাপ সম্প্রীতির ফুটবল-২০২৬’।
শনিবার বিকেলে মাগুরার হাজরাপুর ইউনিয়নের রাউতড়া স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত ৯০ মিনিটের এই প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মুখোমুখি হয় হাজরাপুর ইউনিয়নবাসী ও জেলা পুলিশ, মাগুরা। খেলায় হাজরাপুর ইউনিয়নবাসী ৩-১ গোলে জেলা পুলিশ দলকে পরাজিত করে।
টুর্নামেন্টের প্রধান অতিথি ছিলেন মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম-সেবা। খেলা শেষে তিনি খেলোয়াড় ও দর্শকদের উদ্দেশে সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও সামাজিক ঐক্যের বার্তা তুলে ধরেন।
পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, খেলাধুলা মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বৃদ্ধি করে। আমরা চাই সম্প্রীতির এই বন্ধন অটুট থাকুক। কোনো ধরনের সহিংসতা, সংঘর্ষ বা বিভেদ সমাজের জন্য কাম্য নয়। মিল-মহব্বত ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সবাই একসঙ্গে এগিয়ে যাবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি আলমখালী এলাকায় সংঘর্ষ ও সহিংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধে জড়িয়ে পড়া পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় জেলা পুলিশ একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করে। উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা চালানোর পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে খেলাধুলাকে মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন পর এলাকায় এমন একটি ইতিবাচক আয়োজন মানুষকে একত্রিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও খেলা শেষে খেলোয়াড়, পুলিশ সদস্য ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ দেখা যায়।
আয়োজকদের মতে, তরুণদের মাদক, সহিংসতা ও সংঘাতের পথ থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী করাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
মাঠজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই প্রীতি ম্যাচ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই মনে করছেন, সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে এলাকার স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় হবে।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন