বিসিসিতে জুলাই থেকে কঠোর হচ্ছে ইজিবাইকের অনুমোদন নবায়ন কার্যক্রম

আরিফ হোসেন, বরিশাল ব্যুরো প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
বিসিসিতে জুলাই থেকে কঠোর হচ্ছে ইজিবাইকের অনুমোদন নবায়ন কার্যক্রম

বরিশাল নগরীতে যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং ইজিবাইকের সংখ্যা নির্ধারণে নতুন করে অনুমোদন নবায়ন কার্যক্রম শুরু করেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। তবে এ উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি তুলেছেন শ্রমিক আন্দোলন ও পরিবহন খাত-সংশ্লিষ্ট নেতারা।

অন্যদিকে আগামী ১ জুলাই থেকে অনুমোদনহীন ইজিবাইক ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে বিসিসি।

বিসিসি কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, করোনা-পরবর্তী সময়ে বরিশাল নগরীতে ইজিবাইক ও হলুদ অটোরিকশার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বর্তমানে নগরীতে প্রায় ২০ হাজার অনিবন্ধিত ও অনুমোদনহীন ইজিবাইক ও অটোরিকশা চলাচল করছে বলে জানিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ।

উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. শরফুদ্দিন বলেন, সহজে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় প্রতিদিন গড়ে অন্তত পাঁচটি নতুন ইজিবাইক বা অটোরিকশা নগরীতে যুক্ত হচ্ছে। তবে নগরীতে কতসংখ্যক যানবাহন চলাচল করবে, সে সিদ্ধান্ত সিটি করপোরেশনের। অনুমোদিত যানবাহনের তালিকা পাওয়া গেলে ট্রাফিক বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।

বিসিসির পরিবহন শাখার ব্যবস্থাপক মানিক জানান, গত বছরের জুন মাস থেকে নগরীতে চলাচলকারী ইজিবাইক ও হলুদ অটোরিকশার নবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিগত তিন মেয়াদে মেয়রদের অনুমোদিত ৭ হাজার ৬১০টি ইজিবাইকের নবায়ন বর্তমানে চলমান রয়েছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। এরপর ১ জুলাই থেকে অনুমোদনহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণমূলক ও নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিটি ইজিবাইকের নবায়নের জন্য মোট ৫ হাজার ৯৫০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা, ১৫ শতাংশ ভ্যাট ৭৫০ টাকা, ফরম মূল্য ১০০ টাকা এবং ব্লু-বুক বাবদ ১০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

তবে চালকদের অভিযোগ, নবায়ন ফি পরিশোধের দায়িত্ব মূলত মালিকদের হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা ভাড়াভিত্তিক গাড়ি চালান। ফলে কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

এ বিষয়ে বাসদ নেত্রী ও শ্রমিক আন্দোলনের সংগঠক ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, সিটি করপোরেশনের টোকেন পদ্ধতি কোনো স্থায়ী বা জনবান্ধব সমাধান নয়। শুধু টোকেন নবায়নের মাধ্যমে ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন একটি যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে হলে প্রশিক্ষিত চালক এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, পুরোনো অনুমোদন নবায়নের মাধ্যমে প্রকৃত সমস্যার সমাধান হবে না; বরং এতে স্বজনপ্রীতি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এদিকে নগরবাসীর একাংশের মতে, শুধু টোকেন নবায়ন নয়, বরং ইজিবাইকের সংখ্যা নির্ধারণ, চালকদের প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স নিশ্চিতকরণ এবং নির্দিষ্ট রুট ব্যবস্থাপনা ছাড়া বরিশালের ক্রমবর্ধমান যানজট সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়। ফলে আগামী ১ জুলাইয়ের পর বিসিসির ঘোষিত কঠোর অবস্থান বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সে দিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

এম জি