থানায় রক্ষা পেলেও হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক বা ডিসি কার্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সাধারণ সম্পাদক মাহাদী হাসানকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে মাহাদী হাসান অভিযোগ করেন, ডিসি অফিসের ভেতরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আহত মাহাদী হাসানকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর আগের দিন বুধবারও রিকশায় যাওয়ার পথে তাঁর ওপর হামলার চেষ্টা করা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে থানায় আশ্রয় নিয়ে রক্ষা পান।
জানা যায়, বুধবারের হামলা চেষ্টার সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়ার জন্য মাহাদী হাসান আজ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি লিখিত আবেদন জমা দিতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে কতিপয় লোক ডিসি অফিস প্রাঙ্গণে তাঁর গতিরোধ করে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারে। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হামলার ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংগঠনের নেতারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক জানান, ডিসি অফিসের সামনে মাহাদীকে কতিপয় লোকজন মারধর করেছে এবং তাঁকে লাথি, কিল, ঘুষি মারার প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে৷ বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তবে হামলার সঙ্গে ছাত্রদলের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে ওসি জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
মাহাদী হাসান এর আগেও একাধিক ঘটনায় আলোচনায় এসেছেন। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এক যুবককে ছাড়িয়ে নিতে গিয়ে ওসির কক্ষে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে তিনি ব্যাপক সমালোচিত হন। সে সময় তিনি দাবি করেছিলেন, জুলাই আন্দোলনকারীরাই সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছে এবং বানিয়াচং থানা পুড়িয়ে এসআই সন্তোষকে তাঁরাই আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন।
ওই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পরদিন তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলেও সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় বানিয়াচং থানায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা এসআই সন্তোষ চৌধুরী নিহত হন।
এদিকে গত ফেব্রুয়ারিতে ভারত সফর শেষে দেশে ফেরার সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলা এবং বিদেশ ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের অংশ হিসেবে তখন ওই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন