রাজস্থলীতে জমি দখলের অভিযোগ, তদন্তে আদালত-প্রশাসন

রাজস্থলী (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
রাজস্থলীতে জমি দখলের অভিযোগ, তদন্তে আদালত-প্রশাসন

রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার তিন নম্বর বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের যৌথ খামার এলাকায় সাবেক ইউপি সদস্য ও বাঙ্গালহালিয়া বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর রেকর্ডভুক্ত জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ করেছেন প্রশাসনের নিকট।

জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ৩২০নং কাকড়াছড়ি মৌজায় ১নং খতিয়ানের ডকেট নং ২৩৩৫২, তারিখ ৩ নভেম্বর ২০১৩ ইং মোতাবেক নিম্ন তফসিল ও চৌহদ্দি অনুযায়ী ৪ (চার) একর জমি ও গাছপালা সহ সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ, পিতা: বাদশা মিয়া-এর নিকট থেকে তিনশত টাকার স্ট্যাম্পের মাধ্যমে মাননীয় চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/নোটারি পাবলিক, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা কার্যালয়ে ২০ মে ২০২৪ ইং তারিখে নয় লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকায় ক্রয় করেন। ক্রয় সূত্রে তিনি জমিগুলো ঘেরা বেড়া দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছেন বলে জানা যায়।

মামলার বিবাদীগণ ক্যহ্লাচিং মারমা (পিতা: মৃত মংসাপ্রু মারমা), সিংমং মারমা, পলুমা মারমা, আমেমা মারমা, প্রকাশ মেমা মারমা, মাথুই মারমা- সকলের ঠিকানা যৌথ খামার, ৫ নম্বর ওয়ার্ড, ৩ নম্বর বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন, চন্দ্রঘোনা থানা, রাজস্থলী উপজেলা, রাঙ্গামাটি জেলা। তারা জমিটি নিজেদের দাবি করে জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করে তিনি বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা বরাবর মিস পিটিশন দাখিল করেছেন।

এরই প্রেক্ষিতে আদালত প্রকৃত জমির মালিক নির্ধারণে রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। ইতিমধ্যে গত সপ্তাহে সরেজমিনে তদন্ত করেন নির্বাহী কর্মকর্তা। তদন্তকালে ইউপি সদস্য, স্থানীয় কারবারি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আরও বলেন, সাবেক কাকড়াছড়ি মৌজার হেডম্যান ক্যংমং চৌধুরী ২৬.০৬.২০১২ ইং তারিখে তফসিলভুক্ত জমির চৌহদ্দি অনুযায়ী প্রতিবেদন দিয়েছেন। বিষয়টি চন্দ্রঘোনা থানায় সাধারণ ডায়রি করা হয়, যার নম্বর ২৫৪, তারিখ ০৮/০৯/২০২৫। থানায় ডায়রির ভিত্তিতে তদন্তও হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মোজাম্মেল হক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জমিটি সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ-এর নিকট থেকে ক্রয় করেছেন। বিবাদীগণ জোরপূর্বক জমি দাবি করে দখলের পাঁয়তারা করছে এবং জমির ওপর রোপিত গাছপালা নষ্ট করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এছাড়া জমিতে গেলে তাকে মারধরের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২৩-০৬-২০২২ ইং তারিখের এক বৈঠকের কথাও উল্লেখ করা হয়, যেখানে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয় এবং সেখানে বিবাদীগণ ভুল স্বীকার করেছেন বলে আপসনামায় উল্লেখ রয়েছে। তবে তারা কোনো বৈধ কাগজপত্র দাখিল করতে পারেননি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মংউচি মারমা বলেন, ক্রয়সূত্রে জমিটির প্রকৃত মালিক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি জমিটি ক্রয় করে গাছপালা রোপণ ও পরিচর্যা করে আসছেন। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একাধিকবার বৈঠক হলেও সমস্যা সমাধান হয়েছে, কিন্তু পরে আবারও কিছু পক্ষ জোরপূর্বক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।

অন্যদিকে বিবাদীপক্ষের লোকজন বলেন, তাদের কোনো কাগজপত্র (ডকুমেন্ট) নেই এবং তারা সরকারের পুনর্বাসিত জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। সমঝোতা হলে তারা আপস-মীমাংসা করতে আগ্রহী বলেও জানান।

এদিকে সাবেক ইউপি সদস্য ও বাঙ্গালহালিয়া বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, তার ক্রয়কৃত জমিতে শান্তিপূর্ণভাবে গাছপালা রোপণ ও পরিচর্যা করার জন্য প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন তিনি।

এএন