ইসলামপুরে যমুনার ভাঙনে বিলীন শতাধিক বসতবাড়ি

ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
ইসলামপুরে যমুনার ভাঙনে বিলীন শতাধিক বসতবাড়ি

জামালপুরের ইসলামপুরে হঠাৎ পানি বেড়ে যমুনা নদীতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে শতাধিক বসতভিটা ও কয়েকশ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, ফসলি জমি ও কোটি টাকার সোলার প্যানেল, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বসতঘরসহ সরকারি-বেসরকারি নানা স্থাপনা। ভাঙন রোধে কোনো সমাধান না পেয়ে নিজেদের ব্যবস্থাপনায় প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন স্থানীয়রা।

গত বছর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের চর মন্নিয়া গ্রামটি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এবার অসময়ে ভাঙনে পূর্ব মন্নিয়া গ্রামের আজিল্লা মাঝি, নিদেনু শেখ পরিবারসহ প্রায় শতাধিক বাড়িঘর ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। চলমান ভাঙনে ভয়ংকর রূপে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ। দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে ৭০ বছরের পুরোনো দ্বীপচর মন্নিয়ার গ্রামটি। এলাকাবাসী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

স্থানীয়রা বলেন, যমুনার ভাঙনে বিগত দিনে চর মন্নিয়াসহ অনেক গ্রাম বিলীন হয়ে গেছে। অনেকেই নিঃস্ব হয়ে গ্রাম ছেড়ে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। আগ্রাসী যমুনা কয়েকদিন আগেও অনেক দূরে ছিল। এবারও ভাঙতে ভাঙতে শতাধিক বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। বিগত দিনে কয়েক গ্রামের মানুষ ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিতে মানববন্ধন করেও কোনো প্রতিকার পায়নি। এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে টাকা তুলে বাঁশের বাঁধ দিচ্ছে।

মন্নিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন বলেন, এবারও যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিলে কয়েক দিনের মধ্যেই বিলীন হয়ে যেতে পারে একমাত্র ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি। আমাদের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি রক্ষা না হলে এ অঞ্চলে শিক্ষার মান পিছিয়ে যাবে।

দক্ষিণ মন্নিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুন্নাহার খানম বলেন, আমার স্কুল থেকে কয়েকশ গজ দূরে নদীর অবস্থান। এই স্কুলে শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। আমরা ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চাই।

সাবেক ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম বলেন, যে ভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে তাতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ফসলি জমিসহ অসংখ্য বসতঘর নদীতে চলে যাবে। আমরা আতঙ্কে রয়েছি। সরকার দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিলে আমরা এ অঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ উপকৃত হবো।

বেলগাছা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক আকন্দ বলেন, অসময়ে নদীভাঙন আমাদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে গেছে। ভাঙন ঠেকাতে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে আমরা এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে বাঁশের বাঁধ দিচ্ছি। তারপরও স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান বলেন, যমুনার চর বিশাল একটি জায়গা। এখানে অল্প ডাম্পিংয়ে ভাঙন প্রতিরোধ হবে না। বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। সমীক্ষা করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করবো।

এএন