চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন, চরাঞ্চলের জন্য পৃথক বাজেট বরাদ্দ, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনসহ ১০ দফা দাবিতে কুড়িগ্রামে পদযাত্রা, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বুধবার সকালে চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
আজ সকালে কুড়িগ্রাম শহরের ঘোষপাড়াস্থ সিংহ চত্বর থেকে একটি পদযাত্রা বের হয়। পদযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে গিয়ে শেষ হয় এবং সেখানে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আশরাফুল হক রুবেল, অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু, অধ্যাপক নাজমুন নাহার বিউটি, বিএম আবুল হোসেন, ইউসুফ হোসেন, অধ্যাপক গোলাম রসুল রাজা, ইয়াসিন আলী এবং সাইফুল ইসলাম বাদলসহ অনেকে।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, বাংলাদেশের চরাঞ্চলে বসবাসকারী লাখো মানুষ আজও উন্নয়নের মূলধারার বাইরে রয়ে গেছে। নদীভাঙন, দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং অবকাঠামোগত অনগ্রসরতা চরবাসীর নিত্যসঙ্গী। বিচ্ছিন্নভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হলেও চরাঞ্চলের জন্য সমন্বিত কোনো পরিকল্পনা নেই। তাই চরবাসীর অধিকার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একটি স্বতন্ত্র চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের জনগণ দীর্ঘ ৩৬ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করে পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের উন্নয়নে নতুন গতি এসেছে। চরবাসীরাও তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ এবং প্রয়োজন হলে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে এই দাবি বাস্তবায়ন করা হবে।
সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আশরাফুল হক রুবেল বলেন, প্রতিবছর নদীভাঙনে হাজার হাজার পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। অথচ ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কার্যকর ক্ষতিপূরণ ও স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। জাতীয় বাজেটে চরাঞ্চলের জন্য পৃথক বরাদ্দ না থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না। তাই চরাঞ্চলের মানুষের জন্য একটি পৃথক ‘নদীভাঙন ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন আইন’ প্রণয়ন করা জরুরি।
সমাবেশে বক্তারা চরাঞ্চলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দেন। পরে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১০ দফা সম্বলিত একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। সমাবেশে বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে আসা বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন