বিক্রি করা নবজাতককে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিল মাগুরা পুলিশ

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা  প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম
বিক্রি করা নবজাতককে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিল মাগুরা পুলিশ

মাগুরা সদর উপজেলার বেরইল পলিতা ইউনিয়নের রামদেরগাতী এলাকায় বাবার মাধ্যমে বিক্রি হয়ে যাওয়া এক নবজাতক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে মাগুরা জেলা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে পরিচালিত এক অভিযানে শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রামদেরগাতী এলাকার মো. সাগর হোসেন (৩৪) তার স্ত্রী তানজিলা খাতুনের অজান্তে তাদের এক মাস ২৫ দিনের কন্যাশিশু টুকটুকিকে গত ২৭ মে ২০২৬ দত্তকের নামে ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে দক্ষিণ বীরপুর গ্রামের মো. শাহাবুর (২৮) ও তার স্ত্রী মনিরা খাতুনের কাছে লিখিত স্ট্যাম্পের মাধ্যমে হস্তান্তর করেন।

এদিকে সন্তানকে দেখতে না পেয়ে তানজিলা খাতুন স্বামীর কাছে বারবার জানতে চাইলে তিনি নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। একপর্যায়ে তিনি দাবি করেন, শিশুটিকে ‘জিন’ নিয়ে গেছে এবং সেটিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এভাবে দীর্ঘ সময় ধরে মাকে বিভ্রান্ত করে রাখা হয়।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি মাগুরা জেলা পুলিশের নজরে আসে। পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম-সেবা’র নির্দেশনায় শত্রুজিৎপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই (নিঃ) শুভংকর রায় তদন্ত শুরু করেন। তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় বৃহস্পতিবার দুপুরে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

শিশুটির মা তানজিলা খাতুন বলেন, আমার সন্তানকে ফিরে পাব, সেই আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। পুলিশ আমার মেয়েকে উদ্ধার করে আমার বুকে ফিরিয়ে দিয়েছে। আমি মাগুরা জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞ। একজন মায়ের কাছে সন্তানের চেয়ে বড় কিছু নেই।

মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম-সেবা বলেন, শিশু বিক্রির মতো অমানবিক ও দণ্ডনীয় অপরাধের বিরুদ্ধে মাগুরা জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ঘটনার সত্যতা উদঘাটন করে শিশুটিকে উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাগুরা জেলা পুলিশ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাবে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এম জি