পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরকারি খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, কৃষকদের পরিবর্তে একটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট কম দামে ধান কিনে তা বেশি দামে সরকারি গুদামে বিক্রি করছে। স্থানীয় কৃষকরা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলা খাদ্য গুদামের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, যা ইতোমধ্যে পূরণ হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধিত কৃষকরা এক মন থেকে তিন মেট্রিক টন পর্যন্ত ধান বিক্রি করতে পারেন এবং বিক্রির অর্থ সরাসরি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পরিশোধ করার নির্দেশনা রয়েছে।
তবে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বাস্তবে কৃষকদের ধান বিক্রির সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে। তারা গুদামে ধান নিয়ে গেলে বিভিন্ন অজুহাতে তা ফেরত দেওয়া হয়। অন্যদিকে বাজার থেকে কম দামে ধান কিনে ব্যবসায়ীরা গুদামে বেশি দামে সরবরাহ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রতি মেট্রিক টনে প্রায় তিন হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত লাভ হচ্ছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, খাদ্য গুদামের সামনে ধানবোঝাই একাধিক নসিমন দাঁড়িয়ে আছে। গুদামে ধান নামানো হলেও সেখানে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। চালকদের বরাতে জানা যায়, এসব ধান স্থানীয় ব্যবসায়ী মুক্তি সরকার ও শরিফুল ইসলামের। ধানগুলো উপজেলার কৈইডাঙ্গা এলাকা থেকে আনা হয়েছে।
ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম দাবি করেন, ধানগুলো তার আত্মীয়-স্বজনদের কৃষিজ উৎপাদন, এবং কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেই টাকা পরিশোধ করা হবে। তিনি বলেন, তিনি শুধু ধান পরিবহনে সহায়তা করেছেন।
এ বিষয়ে খাদ্য গুদামের উপপরিদর্শক নিরঞ্জন কুমার ঘোষ বলেন, ধান সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কেনা হয় এবং অর্থও তাদের অ্যাকাউন্টে যায়। কৃষক ছাড়া ধান গ্রহণ করা হয় না। কোনো অনিয়ম হলে তা ফেরত পাঠানো হয়। কাগজপত্র যাচাই করেই ধান গ্রহণ করা হয়।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন