পুত্রবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শ্বশুরের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তের নির্দেশ

মেহেরপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
পুত্রবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শ্বশুরের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তের নির্দেশ

মেহেরপুর শহরের মণ্ডলপাড়া এলাকায় পুত্রবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে শ্বশুর আলফাজ উদ্দিন মধুর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে মেহেরপুর জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী পুত্রবধূ।

আদালতের বিচারক শেখ মাসুদ আলী অভিযোগটি আমলে নিয়ে মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) সাত দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। মামলার নম্বর-পিটিশন মামলা নং ৪৪/২৬।

অভিযুক্ত আলফাজ উদ্দিন মধু মেহেরপুর শহরের মণ্ডলপাড়া এলাকার মৃত সলিম শাহের ছেলে। ভুক্তভোগী নারী আশরাফপুর গ্রামের তসেম আলীর মেয়ে। প্রায় আট মাস আগে পারিবারিকভাবে আলফাজ উদ্দিন মধুর ছেলে শাফিউলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে ছিলেন অ্যাডভোকেট মারুফ আহমেদ বিজন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ মার্চ রাতে শাশুড়ি অসুস্থ থাকায় পরিবারের কয়েকজন সদস্য হাসপাতালে ছিলেন। ওই সময় স্বামী শাফিউল পারিবারিক বিরোধের জেরে বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গভীর রাতে শ্বশুর আলফাজ উদ্দিন মধু পুত্রবধূর কক্ষে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় ভুক্তভোগী বাধা দিলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়।

এ ঘটনায় পরদিন স্বামীকে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ভুক্তভোগী তার বাবার বাড়িতে চলে যান।

মামলায় আরও বলা হয়, পরবর্তীতে শাফিউল অন্য এক নারীকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। বিষয়টি জানতে পেরে পুত্রবধূ শ্বশুরবাড়িতে গেলে অভিযুক্ত শ্বশুর তাকে বিভিন্ন শর্ত মেনে চলার কথা বলেন। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, এর আগেও পরিবারের অন্য পুত্রবধূদের সঙ্গেও একই ধরনের অসদাচরণের ঘটনা ঘটেছিল।

এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।

এম জি