বরগুনার পাথরঘাটা পৌরসভার ছোট পাথরঘাটা এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বুধবার ভোরে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর আনুমানিক ৪টা ৫ মিনিটে হৃদয় নামে এক ব্যবসায়ীর চায়ের দোকান থেকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়। শুরুতে আগুন ছোট পরিসরে থাকলেও মুহূর্তের মধ্যেই তা আশপাশের কাঠের তৈরি দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভয়াবহ রূপ নেয়। আগুনের তীব্রতায় দোকানগুলো দ্রুত দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে।
অগ্নিকাণ্ডে মো. কালামের চা ও মুদি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এছাড়া মো. মনিরের দোকান ও বাসা, মো. নূর জামালের চায়ের দোকান, মো. নাইমের চায়ের দোকানসহ আরও কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আগুনে ভস্মীভূত হয়। আগুনে হৃদয়ের চায়ের দোকানেরও অধিকাংশ মালামাল পুড়ে যায়। এতে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এক নিমিষেই পথে বসার উপক্রম হয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৩ থেকে ১৫ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে পাথরঘাটা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় ভোর ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় তারা।
পাথরঘাটা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, আগুন লাগার পরপরই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আগুনের তীব্রতা অনেক বেশি থাকলেও প্রায় ৪০ মিনিটের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি, যা স্থানীয়দের জন্য কিছুটা স্বস্তির বিষয়। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা তাদের সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং এলাকায় বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে নিয়মিত তদারকি ও সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তারা।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন