চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার গোহট দক্ষিণ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বাড়ির সামনের ৩.৪ কিলোমিটার এলজিইডির গ্রামীণ সড়কের সংস্কারকাজ শুরু করে বন্ধ রেখেছে ঠিকাদার। নির্ধারিত সময়ের এক মাস পার হলেও কাজ শেষ করার কোনো ধরনের উদ্যোগ নেই। সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও পানি জমে থাকায় চলমান বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ বাড়ছে স্থানীয়দের। উপজেলা প্রকৌশলী বলছেন, ঠিকাদারকে দিয়ে কাজটি শেষ করার চেষ্টা চলছে। তা না হলে চুক্তি বাতিল করে অন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হবে।
উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ জানায়, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর কাজ শুরু করার জন্য ঠিকাদার মাছুম বিল্লাহকে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী তার সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার কথা ছিল গত ১১ মে। এর মধ্যে উপজেলা প্রকৌশলী ঠিকাদারকে বেশ কয়েকবার তাগাদা দিলেও তিনি কাজটি শেষ করতে পারেননি। শিক্ষামন্ত্রীর বাড়ির সামনে থেকে ‘রহিমানগর-কৈতবা-আমুজান’ রহিমানগর বাজার সড়ক অভিমুখে ৩.৪ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
সরেজমিনে ওই সড়কে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কটি সংস্কারের জন্য দুই পাশে ইট দিয়ে এজিং করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ইট ভেঙে রাখা হয়েছে। কিন্তু কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। সড়কটির শুরু থেকে রহিমানগর পর্যন্ত বেশ কয়েকটি স্থানে গর্ত ও পানি জমে আছে। যে কারণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও পথচারীদের প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কারণ এটি উপজেলা সদরে যাওয়ার মূল সড়ক। বিকল্প সড়ক দিয়ে গেলে প্রায় ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে ঘুরে যেতে হয়।
গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু রায়হান ও মিসবাহ উদ্দিন বলেন, গত কয়েক মাস ধরে দেখছি সড়কের এজিং করে আর কাজ করা হয়নি। বহু বছর ধরে এই সড়কের সংস্কার হয়নি। বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি জমে আছে। বিকল্প সড়ক দিয়ে আমাদের চলতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা ও বৃষ্টি মৌসুমে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেন বলেন, কেশরকোট গ্রামের সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করেন গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দারা। মন্ত্রীর বাড়ির সামনের এই সড়ক বহু বছর সংস্কার হয়নি। এখনো সড়কের সংস্কারকাজ বন্ধ রয়েছে। ওই এলাকার লোকজনকে এখন বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে ঘুরে আসতে হয়।
সড়কের সংস্কারকাজ বন্ধ রাখার কারণ জানতে ফোন করা হলে ঠিকাদার মাছুম বিল্লাহ বলেন, কাজের মেয়াদ শেষ হলেও তিনি কাজটি করবেন। অর্থসংকটের কারণে তিনি কাজ করতে পারেননি।
ঠিকাদার এ সময় অনেকটা হুমকি দিয়ে বলেন, “গত ১৭ বছর কোথায় ছিলেন? আপনি কি প্রধান প্রকৌশলী? কাজ সম্পর্কে এত প্রশ্ন করেন কেন?”
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কচুয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. আলমগীর লিটনের দপ্তরে এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে গেলে তিনি বলেন, ঠিকাদার মাছুম বিল্লাহ শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের কাজও করেন। সেখানে বিল পেলে এই কাজ শুরু করবেন। তাকে দিয়ে কাজটি করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সড়কটির সংস্কারকাজ শেষ না হওয়ায় তিনি শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকেও চাপে রয়েছেন। ঠিকাদারকে অনুরোধ করার পরও কাজটি শেষ করেননি। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করলে বিধি মোতাবেক বিকল্প ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ করা হবে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন