চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উত্তর ধানুয়া গ্রামে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে বিদ্যুৎকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতা ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. সাইফুল আলমকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
রোববার (২৮ জুন) দুপুরে ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ২০ থেকে ৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ‘এক দফা, এক দাবি-ডিজিএমের অপসারণ চাই’ স্লোগানে বিক্ষোভ করেন।
বিদ্যুৎ বিভাগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৩ জুন অতিরিক্ত লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের উত্তর ধানুয়া গ্রামে চির্কা সাবস্টেশন এলাকা থেকে দুই বিদ্যুৎকর্মীকে তুলে নিয়ে যায় একদল ব্যক্তি। এরপর থেকেই ওই এলাকার একাংশের গ্রাহকদের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের উত্তেজনা চলছিল।
অভিযোগ রয়েছে, এমন পরিস্থিতির মধ্যেই রোববার সকালে ডিজিএম মো. সাইফুল আলম পুলিশি নিরাপত্তা ছাড়াই হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেন। পরে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর এজিএম নাজির উল্লাহর নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ সদস্যের একটি দল উত্তর ধানুয়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে।
সেখানে গ্রামবাসীর সঙ্গে বিদ্যুৎকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে এজিএম নাজির উল্লাহসহ অন্তত ২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত ও লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা।
আন্দোলনরত লাইন টেকনিশিয়ান তহির আহমেদ, লাইনম্যান মমিন, সানোয়ার মোহাম্মদ শুভ, ফেরদাউস খন্দকার, সুজন শেখ, মহন মিয়া, আজহারুল ইসলাম ও শহিদ আলম অভিযোগ করেন, এলাকাটি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বিষয়টি জানা সত্ত্বেও কোনো পুলিশি নিরাপত্তা ছাড়া সেখানে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়ে সহকর্মীদের জীবন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে তারা ডিজিএমের অপসারণ দাবি করেন।
অন্যদিকে গ্রাহকদের অভিযোগ, গত দুই মাস ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ বিলের কপি বিতরণ করা হয়নি। পরে তিন মাসের বিল একসঙ্গে দিয়ে আগের দুই মাসের ওপর বিলম্ব ফি আরোপ করা হয়। এছাড়া পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে আসায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
জুয়েল গাজীসহ কয়েকজন গ্রাহক অভিযোগ করেন, সংযোগ বিচ্ছিন্নের কারণ জানতে চাইলে বিদ্যুৎকর্মীরা ফিরোজা বেগম নামে এক নারী গ্রাহককে মারধর করেন। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং গ্রামবাসী পাল্টা হামলা চালায়।
পরে স্থানীয় সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে বিচ্ছিন্ন করা বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করে বিদ্যুৎকর্মীরা এলাকা ত্যাগ করেন।
গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ বলেন, আমি নিজেও এই অব্যবস্থাপনার ভুক্তভোগী। সাধারণ মানুষকে এভাবে হয়রানি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
অবরুদ্ধ অবস্থায় ডিজিএম মো. সাইফুল আলম এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি শুধু বলেন, জিএম (জেনারেল ম্যানেজার) আসছেন, তিনিই সব বলবেন।
ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. এরশাদ উল্লাহ জানান, ধানুয়া গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অবরুদ্ধ বিদ্যুৎকর্মীদেরও উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খবর পেয়ে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার মো. আতিকুজ্জামান চৌধুরী বিকেলে ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসে পৌঁছে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি বলেন, আন্দোলনরত কর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য শুনেছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে প্রশাসনিক ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও ডিজিএমকে দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন