গুইমারা  নির্ধারিত সময়ে  প্রাক্কলনের চেয়ে বেশি  খাল পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন, বদলে যাবে কৃষকের ভাগ্য

জসীম উদ্দিন জয়নাল,পার্বত্যাঞ্চল প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
গুইমারা  নির্ধারিত সময়ে  প্রাক্কলনের চেয়ে বেশি  খাল পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন, বদলে যাবে কৃষকের ভাগ্য

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও সেচ সংকট নিরসনে সরকারের খাল খনন কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত সময়ে দুটি খালের খননকাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

প্রথম ধাপে উপজেলার তৈমাতাই ও পিলাক খালে মোট ১৩ কিলোমিটার খননকাজ শেষ হওয়ায় দীর্ঘদিনের অবহেলিত এই দুটি খাল পুনঃখননের ফলে ওই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা হতে যাচ্ছে, যা স্থানীয় হাজারো প্রান্তিক কৃষকের ভাগ্য বদলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

​গুইমারা উপজেলা  প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানান, ​দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় গত ২৮ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই খননকাজ শুরু হয়। পরে ২০ মে খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেছিলেন। ২টি খাল পুন:খনন কাজ নির্ধারিত সময়সীমা মেনে ২২ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ সমাপ্ত করা হয়।

​অবকাঠামো: প্রকল্পের আওতায় তৈমাতাই খালে ২১০ মিটার পাইপ ড্রেন ও দুটি ঘাটলা এবং পিলাক খালে একটি ঘাটলা নির্মাণ করা হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের সুবিধার্থে পিলাক খালে ৪৫০ মিটার পিভিসি পাইপলাইন ও দুটি বক্স কালভার্টও স্থাপন করা হয়েছে।

গুইমারা উপজেলার বাইল্যাছড়ি তৈইমাতাই ও হাফছড়ি ইউনিয়নের পিলাক খাল পুনঃখনন খনন প্রকল্পটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের অধীনে ‘ইজিপিপি’ প্রকল্পের আওতায়  বরাদ্দকৃত অর্থে প্রাক্কলনের (বাজেটের) তুলনায় অধিক কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে তৈমাতাই খাল: ৪.১ কিলোমিটার খননের পরিকল্পনা থাকলেও একই বরাদ্দে (১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা) ৬.৮ কিলোমিটার খনন করা হয়েছে। 

পিলাক খাল: ৫ কিলোমিটারের পরিবর্তে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬.২ কিলোমিটার খনন করা হয়েছে।দুটি খালে সর্বমোট ১৩ কিলোমিটার খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে।এতে  তৈমাতাই খালে ৩৫৭ জন এবং পিলাক খালে ৪১৬ জনসহ মোট ৭৭৩ জন শ্রমিক কাজ করেছেন।প্রকল্পে কর্মরত প্রতি শ্রমিক দৈনিক ৫০০ টাকা হারে মজুরি পেয়েছেন।

 ​স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তৈইমাতাই ও পিলাক খাল দুটি পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে শুষ্ক মৌসুমে তীব্র সেচ সংকট দেখা দিত এবং বর্ষায় সৃষ্টি হতো কৃত্রিম বন্যা। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় এই খনন কাজ সম্পন্ন হওয়ায় এখন খালের পানি ধারণক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে আসন্ন মৌসুমগুলোতে গুইমারার বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে সহজেই সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। 

কৃষকেরা এখন আমন, বোরোসহ বিভিন্ন শীতকালীন শাকসবজি ও রবি শস্য অনায়াসে চাষ করতে পারবেন। স্থানীয়রা বলছেন, এই একটি প্রকল্প গুইমারার কৃষি উৎপাদনকে যেমন দ্বিগুণ করবে, তেমনই সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনবে শত শত কৃষক পরিবারে।

গুইমারা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা  (পিআইও) মো. ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই  সফলতার সাথে কাজ সম্পন্ন করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। প্রাক্কলনের চেয়ে বেশি খাল খনন করা হয়েছে, যা সরকারের অর্থের সর্বোচ্চ সুষ্ঠু ব্যবহারের একটি উদাহরণ। গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কাজ শুরু করে অত্যন্ত নিখুঁত পরিকল্পনার মাধ্যমে ২২ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যেই আমরা তৈইমাতাই ও পিলাক খালের খনন কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছি। 

খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ​খালের দুই তীরের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য  তৈমাতাই খালে ২,৬৪১টি এবং পিলাক খালে ২,৪৫০টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা খাঁচাবেষ্টনীসহ রোপণ করা হয়েছে।খাল পুনঃখনন কাজ গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত  সময়ে কাজ শেষ করতে পেরে আমরা আনন্দিত।

​গুইমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিসকাতুল তামান্না বলেন,তৈইমাতাই ও পিলাক খাল পুনঃখনন প্রকল্পটি গুইমারা অঞ্চলের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ফলে এখন স্থানীয় হাজারো প্রান্তিক কৃষক সরাসরি সুফল পাবেন।

শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি বর্ষায় জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে রক্ষা পাবে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। সরকারের এই উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গুইমারার কৃষকদের ভাগ্য বদলে দেবে এবং এই অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক চিত্রকে আরও সমৃদ্ধ করবে। 

​নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে কাজ শেষ করায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

জেএইচআর