গাইবান্ধায় ভুল প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা, দায় কেন্দ্র সচিবের: জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
গাইবান্ধায় ভুল প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা, দায় কেন্দ্র সচিবের: জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা

গাইবান্ধার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের অনিয়মিত (পুরাতন সিলেবাস) পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই মারাত্মক ভুলের ঘটনায় ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এইচএসসি বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় কেন্দ্রটির দুটি কক্ষে বসা নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের কাছে ভুলবশত অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। পরীক্ষা শেষে হল থেকে বের হয়ে মূল প্রশ্নপত্রের সাথে মিলিয়ে দেখার পর বিষয়টি নিশ্চিত হন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। 

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, আমাদেরকে ভুল প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা নেওয়ানো হয়েছে। আমাদের খাতা কীভাবে মূল্যায়ন হবে, ফলাফল কী হবে তা নিয়ে আমরা চরম ঝুঁকিতে আছি।

অভিভাবকদের আশঙ্কা, কর্তৃপক্ষের এমন খামখেয়ালিপনা ও ভুলের কারণে সন্তানদের একটি বছর নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাঁরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সাঘাটা উপজেলার উদয়ন মহিলা ডিগ্রি কলেজ এবং ফুলছড়ি উপজেলার বুড়াইল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রায় ২৫ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থী রয়েছেন।

ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা কেন্দ্র সচিব ও ফুলছড়ি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এস. এম. আসাদুল ইসলামের কাছে তাৎক্ষণিক অভিযোগ জানান। 

এই বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, যে প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা নেওয়া হোক না কেন, সেই প্রশ্নপত্রের উত্তরপত্রের ভিত্তিতেই খাতা মূল্যায়ন করা হবে। আমি এই বিষয়ে অলরেডি শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি।

এদিকে ঘটনাটি কেন্দ্র করে কলেজ প্রাঙ্গণে পরীক্ষার্থী ও উত্তেজিত অভিভাবকদের ভিড় জমে যায়। পরীক্ষা হলের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন চরম অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাব নিয়ে তাঁরা ক্ষোভ ঝাড়তে থাকেন। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। ফুলছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) মশিউর রহমান জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আছে।

এই বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণের সম্পূর্ণ দায় কেন্দ্র সচিবের। শিক্ষা বোর্ডের সুস্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী অনিয়মিত বা পুরাতন সিলেবাসের পরীক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ আলাদা কক্ষে বসানোর কথা। পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের হাতে প্রশ্নপত্র বিতরণের আগে তা যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করারও কড়া নির্দেশনা রয়েছে। এখানে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে।

জেএইচআর