প্রকৃত কৃষক বঞ্চিত হলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে না: আজিজুল বারী হেলাল

নুরুল আমিন, খুলনা প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ১২:৪৫ এএম
প্রকৃত কৃষক বঞ্চিত হলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে না: আজিজুল বারী হেলাল

আওয়ামী লীগের দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির রাজনীতি অনুসরণ করলে বিএনপিতে কারও জায়গা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্যবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল। 

তিনি বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো ধরনের অনিয়ম বা চাঁদাবাজিতে জড়ালে তার দায় দল নেবে না। একই সঙ্গে তিনি সরকারি কৃষিঋণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত কৃষকদের হাতে পৌঁছে দিতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

শনিবার খুলনার রূপসা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) আয়োজিত জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে এক কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

বক্তব্যে আজিজুল বারী হেলাল বলেন, গত ১৭ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় সম্পদ জনগণের কল্যাণে ব্যবহার না করে দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ দেশে দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির যে সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করেছিল, বিএনপির কোনো নেতাকর্মী যদি এখন সেই একই পথে হাঁটে, তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের কোনো পার্থক্য থাকবে না।

তিনি জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন যে দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিএনপির অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। তাই রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সব ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

কৃষকদের অধিকার ও গ্রামীণ অর্থনীতির বর্তমান চিত্র তুলে ধরে সাবেক এই সংসদ সদস্য উল্লেখ করেন, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে কোটি কোটি টাকার ঋণ বরাদ্দ থাকলেও প্রকৃত কৃষক, মৎস্যচাষি ও খামারিরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর পরিবর্তে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি, ঠিকাদার বা সুবিধাভোগী গোষ্ঠী এই ঋণ হাতিয়ে নিচ্ছে এবং পরবর্তীতে সেই অর্থ উচ্চ সুদে দাদন ব্যবসা বা অন্য খাতে বিনিয়োগ করছে, যা পল্লী উন্নয়নের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে। যারা মাঠে সত্যি সত্যি ফসল ফলান, মাছ চাষ করেন কিংবা খামার পরিচালনা করেন, সরকারি ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদেরই অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

ভবিষ্যতে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ঋণ বিতরণে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, সরকারি অর্থ যেন কোনোভাবেই ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রকৃত কৃষক বঞ্চিত হলে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি কখনোই শক্তিশালী হবে না।

রূপসা ইউসিসিএ লিমিটেডের সভাপতি হাসিবুর রহমান বাবু লস্করের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআরডিবির খুলনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আশরাফুল ইসলাম, রূপসার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম এবং বিআরডিবি রূপসা উপজেলার পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তারেক ইকবাল আজিজ। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ, কৃষক প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জেএইচআর