গোয়ালন্দে পারিবারিক জমি বিরোধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, তদন্তে পুলিশ

মো. সাজ্জাদ হোসেন, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
গোয়ালন্দে পারিবারিক জমি বিরোধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, তদন্তে পুলিশ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পৈতৃক সম্পত্তির দখল নিয়ে বাড়িঘরে হামলা এবং একই পরিবারের বেশ কয়েকজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মক জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

হামলাকালে দুর্বৃত্তরা নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তছনছ করা হয়েছে ঘরের আসবাবপত্র। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ঘরের টিনের বেড়া ও দরজা-জানালা ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মাহেলা খাতুন (৬০) নামে ভুক্তভোগী পরিবারের এক নারী থানায় ছয় জনের নাম উল্লেখ করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। মাহেলা খাতুন স্থানীয় হানেফ আলী সরদারের (৭০) স্ত্রী। উপজেলার দৌলতদিয়া সোনাউল্লাহ ফকিরপাড়া এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।

অভিযুক্তরা হলেন- সোনাউল্লাহ ফকিরপাড়ার আলতাফ সরদারের ছেলে রুবেল সরদার (৩২) ও রাব্বী সরদার (২১), মজিবর সরদারের ছেলে কাউছার সরদার (১৯), মৃত লুৎফর সরদারের ছেলে আলতাফ সরদার (৫৫), মো. মজিবর সরদার (৪০) ও মাইনুদ্দিন সরদার (৪৫)।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ব্যক্তিগণ এবং আসামিরা প্রতিবেশী এবং একই বংশের লোক। আসামিদের সঙ্গে বিবাদী নারীর স্বামীর পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। আসামিদের বাড়ির পাশে ভুক্তভোগীর স্বামীর ২২ শতাংশ জমি রয়েছে। ইতিমধ্যে ওই জায়গা নিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েকবার সালিশি বৈঠক বসেছে। কিন্তু আসামিগণ সালিশ মানেননি।

এ ব্যাপারে গত ৩০ জুন আনুমানিক বেলা ৩টার দিকে আসামিরা ভুক্তভোগীর স্বামীর জমিতে জোরপূর্বক ইট, বালু দিয়ে কাজ করতে যান। খবর পেয়ে হানেফ আলী সরদার (৭০), ছেলে মোশারফ সরদার, সাইদুল সরদার, আজম সরদার, নিজাম সরদার, সামাদ সরদার, নাতি পারভেজ সরদার, রবিউল সরদারসহ পরিবারের লোকজন এগিয়ে গিয়ে কাজ করতে নিষেধ করেন। এ সময় আসামিরা দৌড়ে বাড়িতে গিয়ে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ভুক্তভোগীর স্বামী, সন্তান ও নাতিদের এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও লাঠিসোঁটা দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে।

এ সময় ভুক্তভোগীদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কিন্তু তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

ভুক্তভোগী মাহেলা খাতুন জানান, আসামিরা তার স্বামী, সন্তান ও নাতিদের চিকিৎসার জন্য ওইদিন রাত ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে সেই সুযোগে আসামিরা বাড়িতে প্রবেশ করে তিনটি ঘরের বেড়া কুপিয়ে ও লাঠিসোঁটা দিয়ে ভাঙচুর করে আনুমানিক ৩ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন করে।

এছাড়া আসামি রুবেল সরদার তার ছেলে সামাদ সরদারের ঘরে প্রবেশ করে নগদ ২০ হাজার টাকা, ২ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার (আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা) লুট করে নিয়ে যায়। তাদের সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় হাজির হয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে বিবাদীদের পক্ষ থেকে আলতাফ সরদার বলেন, তাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ মিথ্যা। বরং তারা সংঘবদ্ধ হয়ে এসে তার বাবার পৈতৃক জমিতে জোর করে কাজ বন্ধ করেছে। প্রতিবাদ করলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। কয়েকবার সালিশ ডাকা হলেও তারা কেউ উপস্থিত হয় না। তিনি ঘটনার শান্তিপূর্ণ সমাধান চান।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী নারী মাহেলা খাতুনের দেওয়া একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া অপর পক্ষ থেকেও হামলার অভিযোগে একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। উভয় পক্ষের অভিযোগ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এএন