টানা অতিবৃষ্টির কারণে বান্দরবানের সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপজেলার তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম এলাকায় দেড় শতাধিক পর্যটক আটকে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নদীপথে পর্যটক ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ও সতর্কতা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
সোমবার দুপুরে থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুলাই থেকে জেলাজুড়ে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় সাঙ্গু নদী ও আশপাশের পাহাড়ি ছড়াগুলোতে পানির প্রবাহ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। তীব্র স্রোতের কারণে নদীপথ বিপজ্জনক হয়ে ওঠায় পর্যটকেরা তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম এলাকায় আটকা পড়েন। তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন জানান, ইতিমধ্যে তিন্দুর বড় পাথর এলাকায় তীব্র স্রোতে একটি পর্যটকবাহী বোট ডুবে গেছে। তবে সৌভাগ্যবশত এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
থানচি পর্যটক গাইড সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ জানান, সাঙ্গু নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্গম ওই এলাকাগুলোতে দেড় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। এর মধ্যে শুধু নাফাখুম এলাকাতেই আজ প্রায় ৭০ জন পর্যটক আটকে আছেন, যাদের সঙ্গে গাইড সমিতির সভাপতিও রয়েছেন। বৃষ্টি কমে নদীর পানি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
বান্দরবান আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা ইনচার্জ সনাতন কুমার মন্ডল জানান, গতকাল বিকেল ৩টা থেকে আজ বিকেল ৩টা পর্যন্ত জেলায় ১৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার আগের দিন ছিল ২০ মিলিমিটার। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী আরও দুই দিন এই ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ-আল ফয়সাল জানান, অতিবৃষ্টির কারণে সাঙ্গু নদী উত্তাল থাকায় পর্যটকদের এই মুহূর্তে নদীপথে ভ্রমণে সম্পূর্ণ নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এ ছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আটকে পড়া পর্যটকদের স্থানীয় হোটেল, রিসোর্ট বা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য বার্তা পাঠানো হয়েছে। প্রশাসন তাঁদের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন