ময়মনসিংহ নগরীর আর কে মিশন রোডের আলোচিত রুবেল (৩৮) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মায়ের ওপর নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই চার ভাই মিলে রুবেলকে গলা কেটে হত্যা করেছে।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই চার ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রহমত (৩০), জনি (২৮), রকি (২৬) ও ইমরাজ (১৮)। তাঁরা স্থানীয় বাসিন্দা পারুল বেগমের ছেলে।
সোমবার বিকেল ৩টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ময়মনসিংহ পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।
পিবিআই সূত্র জানায়, নিহত রুবেল এলাকায় চিহ্নিত বখাটে, মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রায় এক মাস আগে সে পারুল বেগমের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠে এবং সেখানে বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানার পর বাড়ির মালিক পারুল বেগম তাকে বাসা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলে রুবেল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
তদন্তে জানা যায়, গত রোববার সকালে রুবেল পারুল বেগমের ঘরে গিয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল, মারধর ও শ্লীলতাহানি করে। এ সময় পারুল বেগমের মেজ ছেলে জনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। মায়ের ওপর এমন নির্যাতন ও অপমানের ঘটনায় চার ভাই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে তাঁরা রুবেলের কক্ষে প্রবেশ করে তাকে জবাই করে হত্যা করেন।
এই ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ভুক্তভোগী পারুল বেগম বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি, তবে শ্লীলতাহানি ও মারধরের বিষয়টি স্পষ্ট। চিকিৎসকদের মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর বিষয়টি আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।
উল্লেখ্য, গত রোববার সকালে নগরীর আর কে মিশন রোডের একটি ভাড়া বাসা থেকে রুবেলের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে নগরীজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন