দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে স্বামীর শাবলের আঘাতে কুলসুম আক্তার মিমি (৩০) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর পৌনে ৪টার দিকে পৌর এলাকার স্বজনপুকুর (বুন্দিপাড়া) গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত কুলসুম আক্তার মিমি ওই গ্রামের মৃত আব্দুল কাশেমের মেয়ে। ঘাতক স্বামী মানিক হোসেন পূর্ব গৌরীপাড়া গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই মানিক হোসেন তাঁর শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন। তাঁদের সংসারে তিন ছেলে রয়েছে। মানিক কোনো কাজকর্ম না করায় সংসারের অভাব-অনটন নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া লাগত।
এরই জের ধরে মঙ্গলবার ভোরে কুলসুম আক্তার তাঁর স্বামী মানিক হোসেনকে অন্য ঘরে গিয়ে ঘুমানোর জন্য বলেন। কিন্তু মানিক হোসেন স্ত্রীর ঘরেই ঘুমাবেন বলে জোরাজুরি করেন। একপর্যায়ে কুলসুম স্বামীকে পুনরায় ঘর থেকে চলে যেতে বললে মানিক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে তিনি ঘরে থাকা শাবল দিয়ে কুলসুমের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এতে তাঁর মাথা থেঁতলে যায় এবং বুকে শাবল ঢুকিয়ে দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এই সময় ছেলেদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে ঘাতক মানিক হোসেনকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে এবং মানিককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
মায়ের হত্যার বিচার চেয়ে নিহত কুলসুমের বড় ছেলে আল-আমিন বলে, “আমাদের চোখের সামনে বাবা মাকে হত্যা করেছে। আমরা তাঁর ফাঁসি চাই।”
ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল লতিফ শাহ জানান, ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক স্বামীকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের মা মেহেরুন নেছা বাদী হয়ে মানিক হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন