চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে গত কয়েকদিনের টানা অতি ভারী বর্ষণ ও পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির ঢলে হাটহাজারী-অক্সিজেন মহাসড়কের একাধিক স্থান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকেরা। মহাসড়ক উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা চরম প্লাবনের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের ফতেপুর ইউনিয়নের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ২ নম্বর গেট, চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের নন্দীরহাট ও বড় দীঘির পাড় এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানি সড়কের ওপর দিয়ে তীব্র বেগে প্রবাহিত হচ্ছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বড় দীঘির পাড় এলাকায়। সেখানে সড়কের উত্তর পাশে হাঁটু সমান পানি থাকলেও দক্ষিণ পাশে প্রায় কোমর সমান পানি জমে গেছে। ফলে তীব্র বিঘ্ন ঘটছে যানবাহন চলাচলে। পানির কারণে সড়কে চলাচলকারী বেশ কিছু যানবাহন বিকল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে হাটহাজারীমুখী সড়কের মাঝখানে একটি যাত্রীবাহী বাস বিকল হয়ে পড়ায় প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।
পানির উচ্চতা বেশি হওয়ায় অনেক গাড়ি চলাচল করতে না পেরে যাত্রীদের মাঝপথেই নামিয়ে দিতে বাধ্য হয়। ফলে সাধারণ যাত্রীদের ভ্যানগাড়িতে করে চরম ঝুঁকি নিয়ে জলমগ্ন এলাকা পারাপার হতে দেখা গেছে। এছাড়া সড়কের উভয় পাশের দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ায় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট খুলতে পারেননি।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিগত ৬-৭ বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে তাঁদের এই নিয়তি পোহাতে হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে বাড়িঘর ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে ছড়া ও খাল অবৈধভাবে দখল করার কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
এই চরম ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ পেতে স্থানীয় সাংসদ ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁরা দাবি জানান, মহাসড়কের যেসব স্থান পানিতে তলিয়ে যায় সেগুলো দ্রুত আরও উঁচু করা হোক। পাশাপাশি পাহাড় থেকে নেমে আসা পানি যেন সঠিকভাবে নেমে যেতে পারে, সেজন্য পর্যাপ্ত কালভার্ট নির্মাণ এবং স্থানীয় ছড়াগুলো খনন করে গভীরতা বাড়ানোর জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন