চরফ্যাশনে রিং জালের ফাঁদে হারিয়ে যাচ্ছে দেশী প্রজাতির মাছ 

সেলিম রানা, দক্ষিণ আইচা (ভোলা) প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
চরফ্যাশনে রিং জালের ফাঁদে হারিয়ে যাচ্ছে দেশী প্রজাতির মাছ 

বর্ষাকালে খাল-বিল ও জলাশয়ে সাধারণত দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছের দেখা মিললেও ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় এবার সেই চিত্র দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, চায়না রিং জাল ও কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহারের কারণে দেশীয় মাছের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়ছে জলজ জীববৈচিত্র্য।

জানা গেছে, চরফ্যাশন উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অধিকাংশ এলাকাজুড়েই রয়েছে অসংখ্য খাল-বিল। বর্ষা মৌসুমে এসব জলাশয় পানিতে ভরে ওঠে। একসময় এ সময় দেশীয় প্রজাতির নানা ধরনের মাছ ধরা পড়ত। প্রায় এক দশক আগেও মাছ ধরতে স্থানীয়রা ছাঁই, ফাঁলো, ঠেলা জাল, বড়শিসহ বিভিন্ন দেশীয় উপকরণ ব্যবহার করতেন। এসব পদ্ধতিতে মাছ শিকার হলেও মাছের প্রজননে তেমন ক্ষতি হতো না।

স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে চায়না তৈরি রিং জাল ও কারেন্ট জালের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে ছোট মাছ ও পোনাসহ প্রায় সব ধরনের জলজ প্রাণী ধরা পড়ছে। ফলে দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক বংশবিস্তার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক জেলে ও মাছ শিকারি নিজেদের ভোগ ও বিক্রির জন্য খাল-বিলে কারেন্ট জাল এবং চায়না রিং জাল ব্যবহার করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাছ শিকারি জানান, চায়না রিং জালে শুধু মাছই নয়, সাপ, ব্যাঙসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীও ধরা পড়ে। বর্ষায় খাল-বিলে নতুন পানি এলেই তারা এ ধরনের জাল ব্যবহার করেন।

চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, উপজেলায় গভীর খাল-বিলের সংখ্যা তুলনামূলক কম। এছাড়া শুকনো মৌসুমে অধিকাংশ জলাশয়ে পানি না থাকাও দেশীয় মাছ কমে যাওয়ার একটি কারণ।

নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অভিযানের বিষয়ে তিনি বলেন, চায়না রিং জাল ও কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জব্দ করা জাল ধ্বংস করা হয় এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এম জি