লামায় পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যু  

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
লামায় পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যু  

টানা ভারী বৃষ্টির কারণে বান্দরবানের লামা উপজেলায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া (পাগলির ঝিরি) এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন এবং অপর ঘটনায় এক দম্পতি রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পাহাড়ধসের ঘটনাটি ঘটে ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে। সে সময় পাহাড়ের একটি অংশ ধসে একটি বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা মো. ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মো. সোলেমান ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে একই এলাকার আরেকটি স্থানে দ্বিতীয় দফায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে একটি একতলা পাকা বাড়ির দেয়াল ধসে পড়ে এবং মাটিচাপায় মারা যান মো. জুয়েল (৩৪) ও তার স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫)।

খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। পরে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, একই এলাকায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে লামাসহ বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। অনেক নতুন এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন মারাত্মকভাবে দুর্ভোগে পড়েছে। বিভিন্ন সড়কে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হলেও অনেকেই এখনও তা মানছেন না।

অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ও মোবাইল নেটওয়ার্কও বিঘ্নিত হয়েছে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনাতেও নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

এএন