কোটচাঁদপুরে গভীর রাতে মুখোশধারী ডাকাতদের তাণ্ডব

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬, ১১:১৯ এএম
কোটচাঁদপুরে গভীর রাতে মুখোশধারী ডাকাতদের তাণ্ডব

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর-সাবদারপুর সড়কে গভীর রাতে খেজুর গাছের গুঁড়ি ফেলে মোটরসাইকেল, ট্রাক ও তেলের লরির গতিরোধ করে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ৫ থেকে ৬ জনের মুখোশধারী ডাকাতদল পথচারীদের ওপর হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জহিরুল ইসলাম (৪৬) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। তিনি বর্তমানে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কোটচাঁদপুর থানার লক্ষ্মীকুণ্ডু গ্রামের কুশোগুড়ি মাঠসংলগ্ন ফাঁকা স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলা থেকে মোটরসাইকেলে কোটচাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন কোটচাঁদপুর উপজেলার সলেমানপুর বাজারপাড়ার আবুল কাশেম মণ্ডলের ছেলে জহিরুল ইসলাম (৪৬) এবং মহেশপুর উপজেলার বেগমপুর গ্রামের মৃত দাউদ হোসেন মালিথার ছেলে মমিনুর রহমান (৪২)।

তারা কোটচাঁদপুর-সাবদারপুর সড়কের লক্ষ্মীকুণ্ডু এলাকার কুশোগুড়ি মাঠে পৌঁছালে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৫ থেকে ৬ জনের মুখোশধারী সশস্ত্র ডাকাত রাস্তার ওপর খেজুর গাছের গুঁড়ি ফেলে তাদের পথরোধ করে। ডাকাতদের সবার মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল।

মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা জহিরুল ইসলাম নিচে নামতেই ডাকাতরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এক ডাকাত ধারালো দা দিয়ে তার পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপ দেয়। অপর একজন করাত দিয়ে আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার কাছ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা এবং একটি বাটন মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় ডাকাতরা।

একই সময়ে মোটরসাইকেলচালক মমিনুর রহমানকে জিম্মি করে তার কাছ থেকে নগদ ৮ হাজার টাকা এবং একটি নকিয়া বাটন মোবাইল ফোন লুট করা হয়।

এরপর ডাকাতরা কোটচাঁদপুরের দিক থেকে আসা দুটি ট্রাক ও একটি তেলের লরির গতিরোধ করে। এ সময় সাবদারপুর গ্রামের ট্রাকচালক রিয়াদকে মারধর করে আহত করা হলেও তার কাছ থেকে কিছু নিতে পারেনি তারা। পরে তেলের লরির চালককে জিম্মি করে তার কাছ থেকে আরও ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, ডাকাতির সময় দুষ্কৃতকারীরা নিজেদের মধ্যে একজনকে ‘মাস্টার’ বলে সম্বোধন করছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তি ডাকাত দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।

ঘটনার কিছুক্ষণ পর কোটচাঁদপুর থানা পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা লুট করা মালামাল নিয়ে অন্ধকারে পালিয়ে যায়।

পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা আহত জহিরুল ইসলামকে উদ্ধার করে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ডাকাতদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

এম জি