রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে আটটি গরু। শনিবার ভোররাতে উপজেলার ১ নম্বর ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের মহাজনপাড়া এলাকায় স্থানীয় একটি খালে এ ঘটনা ঘটে। পরে ভেসে যাওয়া আটটি গরুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আকস্মিক এ ঘটনায় নিঃস্ব হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মহাজনপাড়ার বাসিন্দা কৃষক ক্যাচিপ্রু মারমার ছয়টি এবং দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকার রাজস্থলী প্রতিনিধি ও সাংবাদিক আজগর এ. ক্যাচিপ্রু মারমার দুটি গরু পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে যায়। প্রতিদিনের মতো গরুগুলো গ্রামের পাশের চারণভূমিতে ঘাস খেতে গিয়েছিল। কিন্তু রাতভর ভারী বর্ষণের কারণে খালের পানি হঠাৎ বেড়ে গিয়ে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয়। সেই স্রোতেই গরুগুলো ভেসে যায়।
স্থানীয়রা জানান, সকালে গরুগুলোকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করা হয়। পরে বিভিন্ন স্থানে আটটি গরুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কৃষকদের অনেকেই গবাদিপশু পালন করেই সংসার চালান। একসঙ্গে এতগুলো গরু হারিয়ে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বাজার চৌকিদার মিজান বলেন, "আজকের দিনটি আমাদের গ্রামের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ ও গবাদিপশু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রতিদিন গরুগুলো খাল পার হয়ে চারণভূমিতে যায় এবং বিকেলে ফিরে আসে। কিন্তু আজ ভোরের পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে গরুগুলো ভেসে গেছে। এমন ঘটনা আমরা আগে কখনো দেখিনি।"
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ক্যাচিপ্রু মারমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "জীবনে কখনো ভাবিনি এভাবে আমার সব শেষ হয়ে যাবে। আমার ছয়টি গরুই ছিল পরিবারের প্রধান সম্পদ। এক মুহূর্তে সব ভেসে গেছে। আমি এখন নিঃস্ব। কীভাবে সংসার চালাব, জানি না। সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই।"
সাংবাদিক আজগর এ. ক্যাচিপ্রু মারমা বলেন, "আমার দুটি গরুও পানির তোড়ে ভেসে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে লালন-পালন করা গরুগুলো হারিয়ে শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত সব কৃষকের জন্য সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।"
১ নম্বর ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবার্ট ত্রিপুরা বলেন, ঘটনার খবর পেয়েছি। স্থানীয় ইউপি সদস্যকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।
রাজস্থলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিন্টু বলেন, বিষয়টি আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে রয়েছে কৃষি বিভাগ। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।
এ বিষয়ে রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউসুফ হাসানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাজস্থলীর বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত আর্থিক সহায়তা এবং দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় গবাদিপশু রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন