দাকোপে গ্রামীণ সড়কে গ্যাসের ভারী ট্রাক, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা

মোঃ মামুনুর রশিদ, দাকোপ (খুলনা) প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২৬, ০২:১২ পিএম
দাকোপে গ্রামীণ সড়কে গ্যাসের ভারী ট্রাক, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা

খুলনার দাকোপ উপজেলার গ্রামীণ ও উপজেলা সড়কে চলছে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ভারী ট্রাক। অতিরিক্ত ওজনের এসব যানবাহনের কারণে প্রতি বছর সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। স্থানীয় প্রশাসন একাধিকবার ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধের কথা বললেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

দাকোপ উপজেলার চালনা পৌরসভার খলিশা এলাকায় গড়ে ওঠা বিএম গ্যাস কোম্পানির সিলিন্ডার পরিবহনে ৩০ থেকে ৪০ টন ওজনের ভারী ট্রাক ব্যবহার করা হচ্ছে। কোম্পানি থেকে পানখালী ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়ক দিয়ে নিয়মিত এসব ট্রাক চলাচল করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোম্পানি থেকে বৌমার গাছতলা পর্যন্ত আধা কিলোমিটার সড়ক পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন। গাছতলা থেকে কেসি ব্রিজ পর্যন্ত ১ দশমিক ৬৬ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক এবং কেসি ব্রিজ থেকে পানখালী ফেরিঘাট পর্যন্ত ৩ দশমিক ৪০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক এলজিইডির আওতাভুক্ত।

উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সড়কে সর্বোচ্চ ২০ টন এবং গ্রামীণ সড়কে সর্বোচ্চ ১০ টন ওজনের যানবাহন চলাচলের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিএম গ্যাস কোম্পানি ওই সড়কগুলো দিয়ে ৩০ থেকে ৪০ টন ওজনের ভারী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে মালামাল পরিবহন করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিরিক্ত ওজনের যান চলাচলের কারণে প্রতি বছর সড়কগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়। এতে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে এবং প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও চালনা পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী গাজী সরোয়ার হোসেন বলেন, উন্নয়নের নামে পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। কোম্পানির উচিত বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা করা।

চালনা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদ্য সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল বারিক শেখ বলেন, কোম্পানি স্থাপনের সময় তাদের অঙ্গীকার ছিল নিজস্ব অর্থায়নে উপযুক্ত রাস্তা তৈরি করে পরিবহন ব্যবস্থা করবে। কিন্তু তারা সেই প্রতিশ্রুতি রাখেনি। পৌরসভায় একাধিকবার ভারী গাড়ি চলাচল বন্ধের জন্য রেজুলেশন করা হলেও অজ্ঞাত কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি।

তিনি আরও বলেন, এখন তারা খালের দক্ষিণ পাশের নতুন সড়কও ব্যবহার করছে। জনস্বার্থে এসব ভারী যান চলাচল বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে এলজিইডির দাকোপ উপজেলা প্রকৌশলী ইমরান আহমেদ খান বলেন, রাস্তাটি ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে সংস্কার করা উচিত।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী জহির মাজহার বলেন, ওই সড়কের লোড ক্যাপাসিটির বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে ডিজাইন বিভাগের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানতে চাইলে দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, আমরা সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তারা হয় রাস্তার উপযোগী ছোট গাড়ি ব্যবহার করবে, অন্যথায় নদীপথ বা বিকল্প ব্যবস্থায় সিলিন্ডার পরিবহন করবে। এ বিষয়ে তাদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট গ্যাস কোম্পানির পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

বিএম গ্যাস কোম্পানির ম্যানেজার আরমানুর রহমান বলেন, চালনা পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন ও দাকোপ থানা যে পরামর্শ দেয়, আমরা তা মেনেই পরিবহন করে আসছি।

এম জি