আট বছর পর গতি পেল চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রকল্প

এমরান হোসেন রাজন, চাঁদপুর প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম
আট বছর পর গতি পেল চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রকল্প

দীর্ঘ আট বছর প্রশাসনিক জটিলতা ও ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার ধীরগতিতে আটকে থাকা চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ স্থাপন প্রকল্পে অবশেষে দৃশ্যমান অগ্রগতি শুরু হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় সাইনবোর্ড স্থাপন এবং অবকাঠামো উন্নয়নকাজের প্রথম ধাপের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বহুল প্রতীক্ষিত এ প্রকল্প বাস্তবায়নের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ শুরু করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। এরপর পর্যায়ক্রমে হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং কলেজের ভবন নির্মাণকাজ শুরু হবে।

রোববার (১২ জুলাই) সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের ইসলামপুর গাছতলা এলাকায় প্রকল্পের উদ্বোধন করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।

এ সময় তিনি বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই প্রকল্পটির অবকাঠামোগত উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করে প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার সরকারি নীতির ধারাবাহিকতায় প্রকল্পটি দ্রুত অনুমোদন পেয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জমি অধিগ্রহণ বিষয়ে সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, প্রকল্পের জন্য যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হবে, তারা আইন অনুযায়ী শতভাগ ক্ষতিপূরণ পাবেন। এ প্রক্রিয়ায় কোনো দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন নেই। ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত কোনো জটিলতা দেখা দিলে সরাসরি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, চাঁদপুরে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু জেলার মানুষই নয়, আশপাশের জেলার বাসিন্দারাও উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন। এর ফলে রাজধানীমুখী রোগীর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকল্প পরিচালক ও চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মো. হারুন-অর-রশিদ। তিনি জানান, ইসলামপুর গাছতলা মৌজায় প্রায় ৩০ দশমিক ২ একর জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম চলছে। প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়ার বেশির ভাগই সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে জমির মালিকদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোলে আগামী তিন মাসের মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ বিতরণ শুরু করা সম্ভব হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, নার্সিং কলেজ এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম সলিম উল্যা সেলিম, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সাহেলা নাজনীন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দ্বীন, ড্যাব জেলা সভাপতি ডা. মোবারক হোসেন চৌধুরী, চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহবুবুর রহমান, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাসিম আহমেদ টিটো, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএমএন জামিউল হিকমা এবং চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ড্যাব চাঁদপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. সৈয়দ আহমেদ কাজল।

এম জি