মাগুরায় আইন-শৃঙ্খলা, দুর্যোগ প্রস্তুতি ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ে একাধিক সভা

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
মাগুরায় আইন-শৃঙ্খলা, দুর্যোগ প্রস্তুতি ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ে একাধিক সভা

মাগুরায় জেলা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি, জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক সভা ও আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

রোববার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকাব্বীর আহমেদ।

আইন-শৃঙ্খলা সভায় জেলার সার্বিক পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, অপরাধ দমন এবং বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা তাঁদের কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করেন। জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

পরে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক। সভায় সম্ভাব্য বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার প্রস্তুতি, আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থা, ত্রাণসামগ্রী মজুত, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় জেলা প্রশাসক জানান, সম্ভাব্য যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সকল দপ্তরকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

একই দিন জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি।’ অনুষ্ঠানে বক্তারা জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়ন, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম জোরদার, তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ ছাড়া বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত পৃথক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ। সভায় তামাক ও তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব, ধূমপান নিরুৎসাহিতকরণ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং তামাকমুক্ত সমাজ গঠনে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিসহ জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জেএইচআর