গলায় ফাঁস দিয়ে কোটচাঁদপুরে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার রাতে কোটচাঁদপুরের সাফদারপুর আমতলা পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ মর্গে পাঠিয়েছে।
জানা যায়, চৌগাছার উজিরপুর গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে আক্তারুজ্জামান (রনি) (৩৫) কোটচাঁদপুরের সাফদারপুর গ্রামীণ ব্যাংক শাখায় চাকরি করেন। সেই সুবাদে তিনি কোটচাঁদপুর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের বক্তার হোসেনের মেয়ে বিজলী খাতুনকে বিয়ে করেন। তাদের বিয়ের বয়স প্রায় দেড় বছর। এ সময়ের মধ্যে তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোই চলছিল। তবে হঠাৎ সোমবার রাতে গলায় ফাঁস দিয়ে মারা যান বিজলী খাতুন।
নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, রনির আগে দুটি বিয়ে হয়েছিল। বিজলী খাতুন ছিলেন তার তৃতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী পারিবারিক কলহের জেরে চলে যান। দ্বিতীয় স্ত্রী সিজারিয়ান অপারেশনের সময় মারা যান। অন্যদিকে রনি ছিলেন বিজলী খাতুনের তৃতীয় স্বামী।
এ ব্যাপারে স্বামী আক্তারুজ্জামান রনি বলেন, বিয়ের পর থেকে তার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের বিরোধ ছিল না। সোমবার রাতে আমার ছেলে-সহ আমরা তিনজন রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। এরপর রাত ২টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে উঠে দেখি, তিনি পাশের রান্নাঘরের ফ্যানের হুকের সঙ্গে দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়েছেন।
তিনি বলেন, তাকে ওই অবস্থায় দেখে আমি ভয় পেয়ে যাই। পরে বাড়ির মালিক ও আমার এক সহকর্মীকে বিষয়টি জানাই। তারা এসে তাকে দড়ি থেকে নামান।
বিজলীর বাবা বক্তার হোসেন বলেন, দেড় বছর আগে তাদের বিয়ে হয়েছে। কোনো দিন তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ দেখিনি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, তা বুঝতে পারছি না। পরে থানা পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ মর্গে পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) আনসারুল্লাহ হক বলেন, খবর পেয়ে আমি ও আমার সার্কেল স্যার ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন