একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি নিষ্কাশন ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জামালপুর সদর উপজেলার হরিপুর, দড়িফতেপুর, মাছিমপুর, বগালী ও মাঝিপাড়া গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতায় ভুগছে। এতে প্রায় ২০০ একরের বেশি ফসলি জমি বছরের পর বছর অনাবাদি পড়ে আছে। পাশাপাশি অসংখ্য বসতভিটা পানিবন্দি থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, বর্ষা মৌসুমে পাঁচ গ্রামের আবাদি জমি ও বসতভিটা পানিতে তলিয়ে যায়। কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বছরের অধিকাংশ সময় প্রায় দুই শতাধিক পরিবার জলাবদ্ধতার মধ্যে বসবাস করছে।
স্থানীয়রা জানান, ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় সাপ, বিচ্ছু ও বিষাক্ত পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় এলাকায় জোঁকের বিস্তার ঘটেছে। এ ছাড়া অনেকে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জামালপুর-ময়মনসিংহ সড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি ব্রিজ থাকলেও এর এক পাশে মাছের পুকুর এবং অন্য পাশে বসতবাড়ি নির্মাণ ও ড্রেনের অংশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পাঁচ গ্রামের পানি আর স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশন হতে পারছে না।
বগালী গ্রামের মিজানুর রহমান বিন্দু মাস্টার বলেন, আমাদের বাড়ির সামনে ড্রেন ঠিক আছে। অবশিষ্ট অংশ অন্যরা ভরাট করেছে। আমাদের কারণে ড্রেনের কোনো সমস্যা হয়নি।
মাছিমপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেন, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাঁচ গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এমদাদ হোসেন বলেন, পাঁচ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। সাপের পাশাপাশি বিচ্ছুও বিছানায় উঠে আসে। বছরের পর বছর পানি জমে থাকায় জোঁকের উপদ্রব বেড়েছে। দ্রুত ড্রেন সংস্কার করে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।
হরিপুর গ্রামের আব্দুল জলিল বলেন, আগে এসব জমিতে বছরে তিনটি ফসল হতো। কিন্তু গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে প্রায় ২০০ একর জমি পানির নিচে থাকায় অনাবাদি পড়ে আছে। ঘরে সাপ ঢোকে, মানুষের হাতে-পায়ে ঘা হচ্ছে এবং পানিবাহিত নানা রোগ দেখা দিচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, জামালপুর-ময়মনসিংহ সড়কের পাশ দিয়ে নতুন ড্রেন নির্মাণ অথবা বিদ্যমান ড্রেন ও ব্রিজের মুখ সংস্কার করে পানি চলাচল স্বাভাবিক করা হলে জলাবদ্ধতা দূর হবে। এতে কৃষিজমি রক্ষা পাবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।
এ বিষয়ে জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতার বলেন, বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন