রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার সেবাগ্রহীতাদের দুর্ভোগ ও হয়রানি চরম আকার ধারণ করেছে। অভিযোগ উঠেছে, একাধিকবার অফিসে এসেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সমাধান। বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও ভাতার টাকা না পাওয়া, মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর পরিবর্তন ও নাম সংশোধন করতে না পেরে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সমাজসেবা কার্যালয়ে সেবা নিতে এসে দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে। কখনো কর্মকর্তা না থাকা, আবার কখনো নানা অজুহাতে কাজ ঝুলিয়ে রাখার কারণে সাধারণ মানুষ সময় ও অর্থ—উভয় দিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অসহায় মানুষ অফিসে গেলে কেউ সঠিক গুরুত্ব দেয় না বলেও অভিযোগ উঠেছে।
শহীদবাগ ইউনিয়নের এক প্রতিবন্ধী সেবাগ্রহীতা আজিজুল ইসলামের বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, দিন এনে দিন খাই। অনেক কষ্ট করে ছেলের প্রতিবন্ধী কার্ড করেছি। এক বছর হয়ে গেল, এখনো এক টাকাও পাইনি। প্রতিদিন মোবাইলের ব্যালেন্স চেক করি। কতবার সমাজসেবা অফিসে গেছি, শুধু বলে হবে-হবে। যাতায়াতে অনেক টাকা শেষ, এখন আর যাওয়ার সাহস পাই না।”
বালাপাড়া ইউনিয়নের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, তার প্রতিবন্ধী ভাতা চালু থাকলেও অনলাইনে দেওয়া মোবাইল নম্বরটি বর্তমানে সচল নেই। নম্বরটি সংশোধন করার জন্য একাধিকবার অফিসে গিয়েও কোনো সমাধান পাচ্ছেন না। আজ-কাল-পরশু করে দিনের পর দিন টালবাহানা করা হচ্ছে। একইভাবে নাম সংশোধনের জন্য মাসের পর মাস অফিসে যাতায়াত করেও শুধু নতুন নতুন অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এক বয়স্ক ও এক বিধবা ভাতাভোগী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব থাকায় এবং জনবল সংকটের কারণে অনেক প্রশাসনিক কাজ সময়মতো সম্পন্ন হচ্ছে না। আর এর চূড়ান্ত খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের।
এ বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এনামুল হক বলেন, “ল্যাপটপে কারিগরি সমস্যার কারণে ডেটা প্রতিস্থাপনের কাজগুলো সময়মতো শেষ করা সম্ভব হয়নি। তবে এখন সমস্যার সমাধান হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই সব প্রতিস্থাপনের কাজ শেষ হবে এবং আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে আটকে থাকা ভাতার টাকা উপকারভোগীরা পেয়ে যাবেন।”
কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অংকন পাল জানান, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। আপনাদের মাধ্যমেই তিনি এটি জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, “দ্রুতই সমাজসেবা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে সেবাগ্রহীতারা দ্রুত ও নির্বিঘ্নে তাদের প্রাপ্য সেবা পান।”
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন