ফেনীর স্বাস্থ্যখাতের গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদে নেই পূর্ণাঙ্গ প্রধান। চলছে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দিয়ে। এতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সেবা তদারকি, জনবল ব্যবস্থাপনা, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও দাপ্তরিক কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।
জানা গেছে, গত ১৬ জুন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিমকে হঠাৎ ওএসডি করা হয়। তিনি ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
ডা. রুবাইয়াত বিন করিমকে ওএসডি করার কারণে গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রতিষ্ঠান অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়েছে। বর্তমানে দুটি প্রতিষ্ঠান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দিয়ে চলছে।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম চললেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, হাসপাতালের দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসকদের দায়িত্ব বণ্টন, শৃঙ্খলা রক্ষা, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনা, সেবা তদারকি, জনবল ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও জরুরি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হচ্ছে।
এদিকে জেলার গুরুত্বপূর্ণ এ হাসপাতালটিতে ফেনী জেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, নোয়াখালীর বসুরহাট, সেবারহাট, চট্টগ্রামের বারইয়ারহাট এবং খাগড়াছড়ির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন।
অভিযোগ রয়েছে, রোগীরা ডাক্তার দেখিয়ে বের হওয়ার পরই বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালরা প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানাটানি শুরু করে। সরল-সোজা রোগীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই এই চক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ দ্রুত এই হাসপাতাল থেকে দালালচক্র দূর করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল সংকটের পাশাপাশি প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে অনেক সেবা সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন বিভাগে সমন্বয়ের অভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্থায়ী দায়িত্বশীল কর্মকর্তা না থাকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুমোদনের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্প, ক্রয় কার্যক্রম এবং দাপ্তরিক কাজও বিলম্বিত হচ্ছে।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোবারক হোসেন দুলাল জানান, হাসপাতালের অবস্থা অনেকটাই ভালো আছে। তবে জনবল সংকট রয়েছে। দালালের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দালালের দৌরাত্ম্য কমাতে আমরা কাজ করছি।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. জালাল উদ্দীন রুমী বলেন, শূন্য পদে কর্মকর্তা পদায়নের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পদায়ন করা হবে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন