সন্দ্বীপ থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী ১৬ ঘণ্টা পর কুমিল্লায় উদ্ধার

সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুলাই ২৪, ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম
সন্দ্বীপ থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী ১৬ ঘণ্টা পর কুমিল্লায় উদ্ধার

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থেকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কাবিলা বাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। 

শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলছে।

উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীর নাম সানজিদা আক্তার আনিশা (১২)। সে সন্দ্বীপ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তালতলী বাজার এলাকার ব্যবসায়ী শাহাদাতের মেয়ে এবং স্থানীয় আনন্দ পাঠশালার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। আনিশার বাবা শাহাদাত ও পরিবারের ঘনিষ্ঠজন ব্যবসায়ী আমির হোসেন আজাদ উদ্ধার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আমির হোসেন আজাদ জানান, অভিযুক্ত আরিফ (২১) রংপুর জেলার বাসিন্দা। প্রায় ছয় মাস আগে পর্যন্ত তিনি আনিশার বাবার বয়লার মুরগির খামারে চাকরি করতেন। পারিবারিক পরিচিতির সুবাদে এর আগেও তিনি কয়েকবার আনিশাকে স্কুল থেকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে স্কুল ছুটির পর আনন্দ পাঠশালার প্রধান ফটক থেকে আনিশা নিখোঁজ হয়। বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে সে স্কুল গেট থেকে বের হয়ে একটি অটোরিকশায় ওঠে। পরে যুবকটি তাঁর মায়ের অসুস্থতার কথা বলে আনিশাকে সঙ্গে নিয়ে চলে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে সন্দ্বীপ থানা-পুলিশ অটোরিকশার চালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় নিশ্চিত হওয়া যায়, অভিযুক্ত আরিফ সেদিনই আনিশাকে নিয়ে সন্দ্বীপ ছেড়ে চট্টগ্রামের দিকে রওনা হন। নিখোঁজের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ শুরু হয়। এ সময় ফেসবুকে এক ব্যক্তি দাবি করেন, বিকেল ৩টার দিকে কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌরুটে চলাচলকারী একটি সার্ভিস ট্রলারের কেবিনে স্কুলড্রেস পরা আনিশাকে তিনি দেখতে পান।

আমির হোসেন আজাদের দাবি, অভিযুক্ত যুবক আনিশাকে কোনো ওষুধ প্রয়োগ করে অস্বাভাবিক অবস্থায় সীতাকুণ্ডের কুমিরা হয়ে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কাবিলা বাজার এলাকায় নিয়ে যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আনিশার জ্ঞান ফিরে এলে সে কান্নাকাটি শুরু করে। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত যুবকটি সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা মেয়েটির পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে আনিশার বাবা ও আমির হোসেন আজাদ বুড়িচংয়ে গিয়ে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তাঁকে উদ্ধার করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।

এদিকে অভিযুক্ত আরিফকে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জেএইচআর