রাঙামাটিতে মানবাধিকার পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন

মহুয়া জান্নাত মনি, রাঙামাটি প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
রাঙামাটিতে মানবাধিকার পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন

রাঙামাটিতে মানবাধিকার পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ। মঙ্গলবার সকালে শহরের পার্বত্য জ্ঞান অন্বেষণ পাঠাগারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠনটি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম, রাঙামাটি জেলা সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাঙামাটি জেলা সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি বলেন, ‘জানুয়ারি থেকে জুন- এই ছয় মাসে পাহাড়ে আঞ্চলিক দলগুলোর কারণে ২৪০টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৪৭টি অপহরণ ও ১৬টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, কৃষক, চালক, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ এসব ঘটনার শিকার হয়েছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৪ জন নারী অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গত এক বছরে ১ হাজার ৫২০টির বেশি চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে। কাঠ ব্যবসায়ী, ওষুধ কোম্পানি, স্থানীয় পরিবহন এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা ও মুক্তিপণ আদায় করেছে এসব আঞ্চলিক সংগঠন।

অন্যদিকে, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠী জেএসএস, ইউপিডিএফ-প্রসীত ও কেএনএফ ৭০ জনেরও বেশি অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু-কিশোরকে জোরপূর্বক সশস্ত্র সংঘাত ও দলীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত করেছে, যা শিশু আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম বলেন, কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি নয়, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ, ভূমি বিরোধের ন্যায়সঙ্গত নিষ্পত্তি এবং সমান অধিকার নিশ্চিতের মাধ্যমেই পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

এএন