স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ১৫ বছরের কিশোরী মাইশা আক্তার। পরিবারের ভাষ্য, এরপর আর সে ঘরে ফেরেনি। অপহরণের অভিযোগে মামলা হয়েছে, কেটে গেছে এক বছরেরও বেশি সময়। কিন্তু এখনো মেয়ের কোনো খোঁজ পায়নি পরিবার। মামলার অগ্রগতি নিয়েও তাদের মধ্যে রয়েছে হতাশা ও ক্ষোভ।
মাইশা আক্তার মাগুরার মহম্মদপুর সরকারি আরএসকেএইচ ইনস্টিটিউশন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা মো. আব্দুল আজিজের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর স্কুলে যাওয়ার পথে মহম্মদপুর বাজার এলাকার সোনালী ব্যাংকের সামনে থেকে মেয়েকে জোর করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
থানায় দেওয়া এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে তাঁর মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে কথা বললেও কোনো সমাধান হয়নি। বরং মেয়েকে ওই যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। প্রস্তাবে রাজি না হলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুরের দিকে মাইশা স্কুলের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে মহম্মদপুর বাজারে পৌঁছালে কয়েকজনের সহযোগিতায় তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। এ সময় মেয়েটির চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলেও গাড়িটি থামানো সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর মহম্মদপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাও রেকর্ড করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মাইশার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি পরিবার।
মাইশার বাবা মো. আব্দুল আজিজ বলেন, “এক বছর ধরে আমরা মেয়ের জন্য অপেক্ষা করছি। কোথাও কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। একজন বাবার জন্য এর চেয়ে কষ্টের আর কিছু হতে পারে না। আমি চাই, আমার মেয়েকে উদ্ধার করা হোক এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা হোক।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। শুরুতে দ্রুত অগ্রগতির আশ্বাস মিললেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তদন্তের গতি কমে গেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম বলেন, “দুটি মামলার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
তবে মামলার বর্তমান তদন্ত, আসামিদের অবস্থান কিংবা নিখোঁজ কিশোরীর সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
অন্যদিকে, মাইশা যে বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করত, সেই মহম্মদপুর সরকারি আরএসকেএইচ ইনস্টিটিউশন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম নাসিরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এক বছর পেরিয়ে গেলেও মাইশা আক্তারের কোনো সন্ধান না মেলায় এলাকায় নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, মামলার তদন্তে নতুন গতি এনে মেয়েটিকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হোক। কারণ প্রতিটি দিন পেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন