টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট

সুনামগঞ্জে উন্মোচিত হচ্ছে কারিগরি শিক্ষার নতুন দ্বার

শান্তিগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি প্রকাশিত: নভেম্বর ২৬, ২০২৩, ০৮:০৩ পিএম
সুনামগঞ্জে উন্মোচিত হচ্ছে কারিগরি শিক্ষার নতুন দ্বার

◾ নতুন বছরের প্রথম দিকে উদ্বোধন
◾ ১শ ৩২ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হচ্ছে পাঠদান

সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট জেলার সকল মানুষের জন্য আলো আশার বাতিঘর হবে বলে মনে করছেন হাওরপাড়ের মানুষেরা। আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম দিকে ১৩২ জন শিক্ষার্থীর পাঠদানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এরই মধ্য দিয়ে শিক্ষাখাতে সুনামগঞ্জ জেলায় নতুন এক ইতিহাস রচনা হতে যাচ্ছে। হাওরের এই জেলায় উন্মোচিত হতে যাচ্ছে কারিগরি শিক্ষার নতুন দ্বার। এতে খুশি এলাকার সকল শ্রেণি পেশার মানুষ। এমন একটি হাতেকলমে শিক্ষাদান কেন্দ্র সুনামগঞ্জে স্থাপন করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছের সাধারণ মানুষ।

২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশব্যাপি নানান মেগা প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। এর ধারাবাহিকতায় পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানের প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জেও নানামূখী উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে হাওরের জেলা সুনামগঞ্জের শিক্ষাব্যবস্থার চিত্র। মেডিকেল কলেজ, টেক্সটাইল, নার্সিং ইউন্সিটিটিউটসহ বাস্তবায়িত হয়েছে একাধিক মেগা প্রকল্প। এসব প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট। প্রতিষ্ঠানটি নির্মিত হয়েছে ১শ ২৬ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা ব্যায়ে। এখনো কিছু কাজ চলমান আছে।  সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের উত্তর পাশে ৬ একরেরও বেশি জায়গা জোরে মনোরম পরিবশে নির্মাণ করা হয়েছে সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট। বস্ত্র ও পাঠ মন্ত্রনালয়ের বস্ত্র অধিদপ্তরের এ দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামোটি এখন প্রহর গুণছে উদ্বোধনের। মেগা প্রকল্পটির ভবন সংশ্লিষ্ট কাজ বাস্তবায়ন করেছে স্থানীয় গণপূর্ত বিভাগ।

ইন্সটিটিউটটিতে রয়েছে ৪ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন, ৪ তলা বিশিষ্ট ছাত্র ও ছাত্রীদের দুইটি পৃথক ছাত্রবাস, পিন্সিপাল কোয়ার্টার, শিক্ষকদের জন্য ডরমেটরি, স্টাফ ডরমেটরি, তিনটি ল্যাব, ওয়ার্কশপ এন্ড লাইব্রেরি, স্পিনিং সেড, ওয়াভিং সেড, ডায়িং সেড, মসজিদ, পুকুর ও চমৎকার শহিদ মিনারসহ অত্যাধনিক সব সুবিধা। ইতোমধ্যেই ইন্সটিটিউটটিতে শিক্ষক ও কর্মকর্তা কর্মচারিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে লোকবল পদায়ন করা হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের প্রথম সেশন শুরু হবে। হাওরের জেলায় কারিগরি শিক্ষার মান বৃদ্ধিসহ সার্বিক শিক্ষায় ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনবে এ ইন্সিটিটিউট। কর্মস্থানের সুযোগ বাড়বে বলে মনে করছেন এলাকাবাসীসহ সচেতন মহল।

শান্তিগঞ্জ বাজারের ফার্মেসি ব্যবসায়ী মনোয়ার হোসেন বলেন, একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কর্মমূখী শিক্ষার বিকল্প নেই। এতোদিন সুনামগঞ্জ কারিগরি শিক্ষার দিয়ে পিচিয়ে ছিল। টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট নির্মাণে হাওরবাসীর বড় সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সরকার সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের উদ্বোধনে নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক নূর হোসেন বলেন, পরিকল্পনামন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জবাসীকে বড় বড় প্রকল্প উপহার দিয়েছেন। টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট এর মধ্যে একটি। হাওরবাসী এর সুফল প্রত্যক্ষভাবে ভোগ করবে। আমাদের ছেলেমেয়েরা বস্ত্র শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজেকে গড়ে তুলবে। কারিগরি শিক্ষার দ্বার এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উন্মোচন হলো।

টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট হওয়ায় হাওর অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা বস্ত্র প্রকৌশলী হওয়ায়র সুযোগ পাবে বলে মনে করছেন এই প্রতিষ্ঠান প্রধান মাহমুদুল হাসান।

তিনি বলেন, সকল ভর্তি কার্যক্রম শেষ। দেশের সকল কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ক্লাস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী জানুয়ারির প্রথম দিকে আমরা ক্লাস শুরু করবো। ১৩২ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস শুরু করবো।

তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বস্ত্র ও পাঠ নিয়ে গবেষণা করতে পারবেন। পার্থিব জ্ঞান কাজে লাগিয়ে বস্ত্র প্রকৌশলী হয়ে দেশে উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা।

এআরএস