জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার হচ্ছে। দীর্ঘ ৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ছাত্রজীবনের আমেজ ছড়াচ্ছে ক্যাম্পাসজুড়ে। তবে নির্বাচনী প্রচারণার নামে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে প্রার্থীতা বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
জাবি নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত আচরণবিধি অনুযায়ী, কোন প্রার্থী যদি মাদকাসক্তি, ফৌজদারি বা আর্থিক অপরাধ, শৃঙ্খলাপরিপন্থী কাজ বা যৌন অপরাধে যুক্ত থাকেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে তার প্রার্থীতা বাতিল হবে।
নির্বাচনি আচরণবিধির মূল নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ক্যাম্পাসে কোন ধরনের সভা-সমাবেশ করতে হলে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিতে হবে। ২৫ জনের বেশি শিক্ষার্থী একসাথে জমায়েত হতে পারবে না। কোনো বহিরাগত ব্যক্তি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীও কোনো প্রার্থী বা প্রচারণাকে প্রভাবিত করতে পারবেন না।
প্রচার সংক্রান্ত বিধিতে বলা হয়েছে, কোন প্রার্থী হল, দেওয়াল, গেইট, অফিস, অনুষদ, যানবাহন বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈদ্যুতিক খুঁটিতে পোস্টার, ফেস্টুন লাগাতে পারবে না। লিফলেট বিতরণ, প্যান্ডেল বা তোরণ নির্মাণ, ধর্মীয় স্থান ব্যবহার, দেওয়াল লিখন বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহারও নিষিদ্ধ।
প্রার্থীরা অন্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে মানহানিকর বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিতে পারবেন না। ভোটের দুই সপ্তাহ আগে নির্বাচন প্রচারণা শুরু করা যাবে না। মাইক বা সাউন্ড সিস্টেমও ব্যবহার করা যাবে না।
নির্বাচনী খরচ সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। হল সংসদের প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ৪,০০০ টাকা এবং কেন্দ্রীয় সংসদের প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ৭,০০০ টাকা খরচ করতে পারবেন।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে প্রার্থীতা বাতিলসহ ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ-২০১৮’ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে।
জাবি নির্বাচন কমিশন শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে এবং শিক্ষার্থীদের সকলকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন